
আহসান হাবীব বাপ্পী, যশোর :যশোর শহরের বি-ব্লকে মারকাজ মসজিদের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন নিয়ে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আগের অভিযানে ভবনের সামনের বর্ধিত অংশ ভেঙে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হলেও অনুমোদন ছাড়াই আবারও নির্মাণকাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ভবনটি পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটির চারপাশে বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের অভিযানে সামনের অংশ ভেঙে দেওয়ার পরও পুনরায় নির্মাণ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের যশোর উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিক আহম্মেদ সাকিব জানান, ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় সেটি ভেঙে সংশোধন করতে বলা হয়েছিল। বিকল্প হিসেবে নতুন করে নকশা অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই নির্মাণকাজ শুরু করার কথা ছিল।
তবে তাঁর দপ্তরে নতুন নকশা বা এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র জমা পড়েনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। ফলে প্রয়োজনীয় সংশোধন কিংবা নতুন নকশার অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে আবার নির্মাণকাজ চলছে, তার সদুত্তর মেলেনি।
নির্মাণকাজ চলমান থাকার বিষয়টি জানানো হলে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, এ বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। তিনি শিগগিরই একজন ফিল্ড অফিসার পাঠিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং ভবন কর্তৃপক্ষকে পুনরায় নোটিশ দেবেন।
তিনি আরও বলেন, ভবনের চারপাশে যতটুকু অংশ ছাড়ার কথা, তা ছাড়া হয়নি এবং নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী কাজ হয়নি। এ কারণে ভবন কর্তৃপক্ষকে সংশোধন হয়ে পুনরায় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিয়ে কীভাবে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে? এক্ষেত্রে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী?
একটি বহুতল ভবনের নির্মাণে অনুমোদিত নকশা ও প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং সরেজমিনের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।