
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:যশোরের কেশবপুর উপজেলার ডহরী ৮ ব্যান্ড গেটে কচুরিপানার স্তূপ জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কচুরিপানা অপসারণে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী কয়েক দিন ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে পুরোপুরি সফল হতে পারছেন না তাঁরা। ফলে চলতি মৌসুমে বিলে ধান চাষ করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেটের কাছে কচুরিপানা জমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়ন এবং ঘেরমালিকদের সহযোগিতায় কচুরিপানা সরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। পানির স্রোতে কচুরিপানা ভেসে যাওয়া ঠেকাতে বাঁশের বেরিকেটও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বেরিকেট ভেঙে কচুরিপানা আবারও ভেসে চলে যাওয়ায় তাঁদের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এরপরও হাল না ছেড়ে আজও কচুরিপানা অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
এ কাজে রকিবুল হাসান ডালিম, অলিয়ার রহমান সরদার, রজব সানা, মশিউর রহমান, মিজানুর রহমান, জিয়াউর রহমান সরদার ও ইকরাম সরদারসহ স্থানীয় আরও অনেকে অংশ নিচ্ছেন। নিজেদের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালালেও প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি সম্পূর্ণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় উদ্যোগে কাজ চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, নিজস্ব অর্থায়ন ও ঘেরমালিকদের সহযোগিতায় কচুরিপানা সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এত বড় কাজ একা তাঁদের পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া গেলে কচুরিপানা অপসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, খালে থাকা পাটা অপসারণ করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, কচুরিপানা পরিষ্কারের পাশাপাশি খালের পাটা সরানো হলে পানির স্বাভাবিক স্রোত বাড়বে এবং পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। এতে বিলে জমে থাকা পানি কমানো ও কৃষিকাজের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা মিলতে পারে।
২৭ বিলের কৃষক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কচুরিপানা অপসারণ এবং খালের পাটা সরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তাঁদের আশা, আগামীকাল থেকেই কচুরিপানা ও পাটা অপসারণের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং তাঁরা ধান চাষের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
কৃষিনির্ভর ২৭ বিলের মানুষের জীবিকা অনেকটাই কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। তাই সময়মতো পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষকদের ধান চাষের সুযোগ তৈরি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর। এখন তাঁদের একটাই দাবি, ২৭ বিলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে কচুরিপানা অপসারণ এবং খালের পাটা সরাতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসুক।