মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেইসবুক পোস্টের জেরে মণিরামপুরে ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা,আহত ১ ভাঙ্গায় মসজিদ থেকে বেরিয়ে এনজিওকর্মীর মৃত্যু, উধাও মোটরসাইকেল ও টাকা যশোরে ভৈরব নদীতে বিজিবির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ঝিনাইদহে ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল জব্দ, অস্ত্র আইনে মামলা কোটচাঁদপুরে সিঙ্গাপুর প্রবাসীর ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: চক্রান্তের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ। ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সেবা পেতে গ্রাহকের ভোগান্তি, ফোনে ধমক দিলেন এজিএম কম ৪৯ বিজিবির টহলে যশোর সীমান্তে বড় ধরনের চোরাচালানী মালামাল জব্দ পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে জেআরইউ নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা ভাঙ্গায় সাবেক স্থানে ইউপি ভবন নির্মাণের দাবিতে ৫ হাজার মানুষের মানববন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম

ভাঙ্গায় মসজিদ থেকে বেরিয়ে এনজিওকর্মীর মৃত্যু, উধাও মোটরসাইকেল ও টাকা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কিছু? তদন্তে পুলিশের নজর

মোঃ রিপন শেখ, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করে কিস্তির টাকা সংগ্রহে বের হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক এনজিওকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পরও কাটছে না রহস্যের জট। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। পাওয়া যাচ্ছে না তার কাছে থাকা কিস্তির টাকাও। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয়—অজ্ঞাত এক ভ্যানচালক তাকে হাসপাতালে রেখে কাউকে কিছু না বলেই চলে যান।
নিহত এনজিওকর্মী আব্দুল তোহা (৩০) পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার করিম মোল্লার ছেলে। তিনি টিএসএমএস নামের একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়ন রায়পাড়া এলাকার মিনার মসজিদে আছর নামাজ আদায় করেন আব্দুল তোহা। নামাজ শেষে তিনি পূর্ব হাসানদিয়া এলাকায় সালমা নামের এক গ্রাহকের বাড়িতে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে যান।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ভ্যানচালক তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে রেখে ওই ভ্যানচালক দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা পরবর্তীতে তাকে বরিশালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
মোটরসাইকেল গেল কোথায়?
ঘটনার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে নিহতের মোটরসাইকেল নিয়ে। দুর্ঘটনা হয়ে থাকলে মোটরসাইকেলটি কোথায়? তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা ভ্যানচালকই বা কে? তিনি কোথা থেকে আহত তোহাকে উদ্ধার করেছিলেন? হাসপাতালে রেখে কেন তিনি পরিচয় না দিয়ে চলে গেলেন?
এ ছাড়া নিহতের সঙ্গে থাকা কিস্তির টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। ফলে ঘটনাটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সহকর্মীর বক্তব্য
টিএসএমএসের সহকর্মী রিয়াজ হোসেন বলেন,
“আব্দুল তোহা রায়পাড়া মিনার মসজিদে আসরের নামাজ পড়ে পূর্ব হাসানদিয়ার সালমার বাড়িতে কিস্তির টাকা আনতে যান। এরপর কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি। তার মোটরসাইকেলও পাওয়া যাচ্ছে না। তার কাছে কিস্তির টাকা ছিল, সেই টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ভ্যানচালককে শনাক্ত করা, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও লোকেশন যাচাই এবং নিখোঁজ মোটরসাইকেল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাঙ্গা থানার এসআই আফজাল হোসেন বলেন,
“ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
এদিকে আব্দুল তোহার মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জোরালো হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews