রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার ‎সরকারি ডিউটি ফাঁকি, বেসরকারি ক্লিনিকে ব্যস্ত চিকিৎসক! মণিরামপুর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা মুখ থুবড়ে লাখ টাকার ড্রেন আচ্ছা বাপু এ তো সরকারি কাজ তাইনা,তালি আবার হয়না কেন! মণিরামপুরে এক শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ খুলে প্রতারণা, ভাঙ্গা থেকে র‍্যাবের জালে আতিয়ার দর্জি আটক গলাচিপায় চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ, আদালতে মামলা ভাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ শ্যালকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে ভগ্নিপতির সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা একটি মুহূর্তেই নিভে গেল একই পরিবারের চারটি প্রাণ কেশবপুরে (অসকস)-এর মাসিক সভা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

একটি মুহূর্তেই নিভে গেল একই পরিবারের চারটি প্রাণ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ

বাঁকড়া (যশোর) প্রতিনিধি:একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের হাসি-আনন্দকে পরিণত করেছে আজীবনের শোকে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘটিত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারটি। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে দিন কাটছে তাদের।

এই শোকাহত পরিবারের খোঁজখবর নিতে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে যান। তিনি নিহতদের কবর জিয়ারত করে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে সান্ত্বনা দেন।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের পরিবারের চার সদস্য এবং প্রাইভেটকারের চালক নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে আরিফ হোসেন (২৮), ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০), মেয়ে আয়েশা খাতুন (৩৫), স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫০) এবং প্রাইভেটকারচালক যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের জাহিদ হোসেন (৩০)।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় দুই শিশু আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনও শারীরিক ও মানসিকভাবে সেই বিভীষিকাময় ঘটনার ক্ষত বহন করছে। পরিবারের একমাত্র জীবিত অভিভাবক মো. শহিদুল ইসলাম এবং তাঁর জামাতা পাশ্ববর্তী উজ্জ্বলপুর গ্রামের ইলিয়াস হোসেন এখন দুই শিশুর চিকিৎসা ও পরিবারের পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি, পরিবারের বর্তমান অবস্থা ও আর্থিক সংকট সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে জামাতা ইলিয়াস হোসেনের কাছ থেকে আহত দুই শিশুর সম্পর্কেও বিস্তারিত জানেন।

দুর্ঘটনার বর্ণনা শুনে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি পরিবারের ওপর এমন নির্মম বিপর্যয় সত্যিই হৃদয়বিদারক। নিহতদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণ কেড়ে নেয় না; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের দায়িত্বশীলতা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন, বাঁকড়া ইউনিয়ন জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট হাবিব খায়সার, বাঁকড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুনুর রহমান, সাবেক সেক্রেটারি ড. মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, অফিস সম্পাদক মাস্টার জয়নুল আবেদীন, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, শ্রমিককল্যাণ বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল রশিদ, তরবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা সিহাব হোসেন, যুব বিভাগের সভাপতি মো. আহাদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, নিহত পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews