
মোঃ রিপন শেখ, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আতিয়ার দর্জি (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আতিয়ার দর্জি উপজেলার আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা।
ফরিদপুর ১০ র্যাব জানায়, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে। পরে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের তদবির, প্রভাব বিস্তার ও অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালাত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এরপর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হলে তদন্তের সূত্র ধরে র্যাব-১০ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং অভিযানের মাধ্যমে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস, সাতটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি এটিএম কার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০-এর কোম্পানি কমান্ডার, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিচয় ভুয়াভাবে ব্যবহার করে প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার ও অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ দমনে র্যাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে কোনো ব্যক্তি নিজেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে দাবি করলে পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন, গোপন তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা র্যাবকে জানাতে হবে।”
র্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।