রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার ‎সরকারি ডিউটি ফাঁকি, বেসরকারি ক্লিনিকে ব্যস্ত চিকিৎসক! মণিরামপুর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা মুখ থুবড়ে লাখ টাকার ড্রেন আচ্ছা বাপু এ তো সরকারি কাজ তাইনা,তালি আবার হয়না কেন! মণিরামপুরে এক শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নামে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ খুলে প্রতারণা, ভাঙ্গা থেকে র‍্যাবের জালে আতিয়ার দর্জি আটক গলাচিপায় চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ, আদালতে মামলা ভাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ শ্যালকের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে ভগ্নিপতির সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা একটি মুহূর্তেই নিভে গেল একই পরিবারের চারটি প্রাণ কেশবপুরে (অসকস)-এর মাসিক সভা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

‎সরকারি ডিউটি ফাঁকি, বেসরকারি ক্লিনিকে ব্যস্ত চিকিৎসক! মণিরামপুর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা মুখ থুবড়ে

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

বিএম সাব্বির হাসান:-যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান থাকলেও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে বাড়ছে জনঅসন্তোষ। সরকারি বিধি অনুযায়ী বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসক না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেক রোগী। সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন এবং একাধিক রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৮টায় বহির্বিভাগ চালু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক চিকিৎসক সকাল ৯টার আগে হাসপাতালে উপস্থিত হন না। আবার দুপুর ১টার পর থেকেই বহির্বিভাগের অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ ফাঁকা হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

‎উপজেলার নেহালপুর গ্রামের এক রোগী জানান, দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালে এসে বহির্বিভাগে কোনো চিকিৎসক পাননি। চিকিৎসা না নিয়েই তাকে ফিরে যেতে হয়েছে। খানপুর গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন বলেন,আমি দুপুর ১টার সময় হাসপাতালে এসে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। কিন্তু কোনো চিকিৎসক পাইনি। হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের হরিচাঁদ জানান,সকাল সাড়ে ৭টায় হাসপাতালে এসে বহির্বিভাগে কোনো চিকিৎসক পাইনি। পরে সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসক আসলে টিকিট নিয়ে চিকিৎসা নিতে সক্ষম হই। সরেজমিনে দুপুর ১টার দিকে বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকদের কক্ষ খোলা থাকলেও অধিকাংশ কক্ষে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত নেই। এ বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুপুর ১টা বাজে, ডাক্তার আর কতক্ষণ থাকবে? আপনাদের জন্য তো বসে থাকবে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখতে চলে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটসংলগ্ন কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখার কারণেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল কথা বলব। এবিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি। সরকারি দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এমন অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ উন্নীত হাসপাতালের প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews