শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরস্থ সাতক্ষীরা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সদস্য মোজাফফার হোসেনকে বিদায় সংবর্ধনা যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত শ্যামনগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত যশোর হামিদপুর আল-হেরা কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত ছয় বছরের পথচলায় মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত রাতদিন নিউজ, বর্ণাঢ্য আয়োজনে অর্ধযুগ পূর্তি উৎসব জনগণকে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না: প্রতিমন্ত্রী অমিত নড়াইলের লোহাগড়ায় ছেলের হাতে বাবা খুন এস এফ ট্রাভেলসের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার হজ্ব প্রতারণার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের ১৬ বছর পর চট্টগ্রামে ধরা পড়ল খুলনার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

আধুনিকায়নের পথে বেনাপোল বন্দর, হচ্ছে নতুন এক্সেস প্রজেক্ট ও হাসপাতাল–ঘোষণা চেয়ারম্যান মান্নার

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

শাহাবুদ্দিন আহামেদ, বেনাপোল: বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামো ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। তিনি জানিয়েছেন, বন্দরের উন্নয়নে নতুন একটি এক্সেস প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার এবং পুরো বন্দরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ১ নম্বর শেড পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সফর শুরু করেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না। পরে তিনি বন্দরের ৩১ নম্বর শেডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের অবকাঠামো, পণ্য ওঠানামার স্থান, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চেয়ারম্যান মানজারুল ইসলাম মান্না বলেন, “বেনাপোল বন্দরে একটা বিশাল চেঞ্জ হবে। বন্দরের জন্য নতুন একটি এক্সেস প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোথায় কী করা হবে, সেটির একটি ম্যাপও করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, বন্দরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নত করা হবে। বৃষ্টির পানি ও অন্যান্য কারণে যাতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়েছে।

শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “বন্দরের শ্রমিকদের জন্য একটি হাসপাতাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। যারা প্রতিদিন বন্দরে কাজ করেন, তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”

নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বেনাপোল বন্দরে শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পুরো বন্দরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।” এর ফলে বন্দরের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে চেয়ারম্যান বলেন, “সকলকে সৎ হতে হবে। কেউ কোনো ধরনের খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”

বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ সহিদ আলী বলেন, “বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহোদয়ের আজকের পরিদর্শন আমাদের শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার যে পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন, আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই বন্দর আধুনিকায়নের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। শ্রমিকরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারলে বন্দরের পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে এটি দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হবে।”
সহিদ আলী আরও বলেন, “বন্দরের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আমরা চাই শ্রমিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বেনাপোল বন্দরকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও কর্মবান্ধব বন্দরে পরিণত করা হোক।”

পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঢাকা তত্ত্ববোধক হাসান আলী,বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন হাওলাদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আনিসুল হক, সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ, আব্দুল হান্নান ও সঞ্জয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলীসহ বন্দরের সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান বন্দরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত সমস্যা, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

চেয়ারম্যানের এ পরিদর্শন ও ঘোষিত পরিকল্পনাকে ঘিরে বেনাপোল স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews