শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতির এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক মনিরামপুরে ১৬ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে শহীদ ইকবাল দীর্ঘদিনের খেদমত শেষে বাইতুল আমান মসজিদের খতিব মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিককে অশ্রুসজল সংবর্ধনা ও বিদায় দেখার কেউ নেইঃ পুকুরের উপর নড়বড়ে কাঠের দোকানে বৃদ্ধার মানবতার জীবন! যশোর সীমান্তে ৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক যশোরে সৌদি আরবে হুতি হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ডায়ের খালের গেটে শ্রমিকদের সঙ্গে পানিতে নেমে শেওলা পরিষ্কার করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম ৭ বছরের আইনি লড়াই ও মানসিক যন্ত্রণা শেষে খালাস পেলেন খাদ্য পরিদর্শক ইলিয়াস দৌড়ে মোবাইল ছিনতাইকারী ধরলেন আনসার সদস্য!

যশোরে ইউপি সদস্যের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের হাওলী গ্রামে ইউপি সদস্য আলী কদর ও তার সহযোগীদের হামলায় নারীসহ অন্তত ৭–৮ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে মোছা. শাপলা খাতুন ও তার ভাইপো অমিত হাসান রয়েছেন। মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে শাপলা খাতুনের মাথায় ১৪টি এবং অমিত হাসানের মাথায় ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে।

বুধবার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মোছা. শাপলা খাতুন। তিনি জানান, তার স্বামী আব্দুস সালাম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাপলা খাতুন বলেন, ইউপি সদস্য আলী কদর গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় ভূমি দখল, সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি ও মারপিটসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। সরকার পরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে তিনি নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে আবারও আগের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আলী কদর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে মাটি কাটার অপরাধে জরিমানা করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের পরিবারকে সন্দেহ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাদের ৭ বিঘা ধানের জমি চাষের জন্য একটি ট্রাক্টর সরকারি রাস্তা দিয়ে আলী কদরের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ওই রাস্তা নিজের দাবি করে বাধা দেন। এ সময় আলী কদরের নেতৃত্বে ইকবাল হোসেন, খাদেমুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী, আদম আলীসহ ৭–৮ জন আব্দুস সালামকে মারধর করে।
শাপলা খাতুন বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। একই সময় ভাইপো অমিত হাসানকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

ঘটনার সময় ৮–১০ জন গ্রামবাসী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় এবং অস্ত্র দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভয়ে গ্রামবাসীরা সরে গেলে হামলাকারীরা গালিগালাজ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে আহতদের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর আব্দুস সালাম বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার এতদিন পরও একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শাপলা খাতুন আরও বলেন, “উল্টো আলী কদর আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ ও ওই চক্রের লোকজন আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব আলম, শরিফুল ইসলাম, বাবর আলী, সোহাগ হোসেন, সোহেল রানা, সাইফুল ইসলাম, আরিফ হোসেন ও জুবাইদা বেগম।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews