সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভাঙ্গায় কারাবন্দী লিটু প্যারোলে মুক্ত হয়ে দেখলেন বাবার মুখ, জানাজায় আবেগঘন পরিবেশ গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৭ যশোর সীমান্তে বিদেশি মদসহ ৪ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক যশোরে নিজ জমির বেড়া খুলতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ব্যবসায়ী দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান: ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মোঃ জাভেদ হোসেন খান গোপালগঞ্জ শহরে ভাড়া বাসা থেকে নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে যশোরে এনসিপির লিফলেট বিতরণ যশোরে অনুমতি ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কেটে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ যশোর বার্তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা যশোর সীমান্তে ৪ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি

জামিনে বেরিয়েই ফের বেপরোয়া ইমরান, মাদক কারবারে সক্রিয় থাকার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়নের আমজামতলা এলাকায় মাদক কারবারে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ইমরান হোসেন নামে এক যুবক। তিনি ওই এলাকার আকিমুল ইসলামের ছেলে। এর আগে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বের হওয়ার পর আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন ইমরান। তার বিরুদ্ধে চৌগাছাসহ যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয় একাধিক সূত্রের। এসব মামলার অর্ধেকের বেশি মাদকসংক্রান্ত বলে জানা গেছে।

গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আমজামতলা বাজারের ইমরান মার্কেট সংলগ্ন একটি গলিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় চৌগাছা থানা পুলিশ। অভিযানে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি স্মার্ট মোবাইল ফোনসহ ইমরান হোসেন ও জুয়েল বিশ্বাস নামে দুজনকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনূর রশিদ। এ সময় দশপাখিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) বাজিৎ মোল্লাসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
পুলিশের দাবি, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে আগে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। অপরদিকে জুয়েল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইমরানের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা আরও বেশি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চৌগাছাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় আর্থিকভাবে সাধারণ অবস্থায় থাকা ইমরানের জীবনযাত্রায় অল্প সময়ের ব্যবধানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমজামতলা বাজার এলাকায় গড়ে তুলেছেন দুইতলা বিলাসবহুল বাড়ি। চলাফেরায় ব্যবহার করেন দামি মোটরসাইকেল। মাদক কারবারের অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পদ ও জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ।

ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সুমন হোসেন নামে এক যুবক। সুমনের অভিযোগ, এক লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি এক ভরি তিন আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ইমরানের কাছে বন্ধক রাখেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি টাকা পরিশোধ করলেও ইমরান ওই স্বর্ণালংকার এখনো ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেছেন সুমন।

এছাড়া যশোরের সোনালী ব্যাংকের চৌগাছা শাখায় সুমন হোসেনের একটি চেক চুরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সুমনের দাবি, বিষয়টি তিনি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ায় টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি। পরে ওই চেক ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ইমরান তার কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পৃথক এসব ঘটনায় সুমন হোসেন বাদী হয়ে ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে যশোরের বিজ্ঞ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌগাছার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে অনেকেই আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার নয়, মাদকের মূল উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের যোগানদাতাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

গত ৬ জুলাই অভিযানে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ ইমরান ও জুয়েলকে আটকের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, বারবার মামলা ও গ্রেপ্তারের পরও যদি একই ব্যক্তিরা পুনরায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে এর নেপথ্যে থাকা চক্রটি কতটা শক্তিশালী এবং তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মাদক কারবার, স্বর্ণালংকার আটকে রাখা, চেক জালিয়াতির চেষ্টা এবং অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews