বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি কুয়েটে ড. এম. এ. রশীদ হলের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শার্শায় নিখোঁজ যুবক ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দূর্বাডাঙ্গায় পুলিশের কঠোর বার্তা গোপালগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারি খুলনাবাসী একটি বিপদের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন — মজ্ঞু বাঁকড়া বাজারে যানজট, সড়কের অর্ধেক দখলে থাকে যানবাহন কেশবপুরের পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইকবাল পুলিশের হাতে আটক। আবারও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে দেশসেরা যবিপ্রবি বেনাপোল স্থলবন্দর আকস্মিক পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

মণিরামপুরে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ধান ঘরে তুলতে ব্যাস্ত কৃষান-কৃষানীরা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। মাঠের চারদিকের নিস্তব্ধতা বলে দেই হঠাৎ করে আসতে পারে দমকা হাওয়া,নামতে পারে ঝুম বৃষ্টি। কৃষি মাতৃক বাংলাদেশে গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে চলছে চলতি বোরো মৌসুমের ধান ঘরে তোলার আপ্রায়ন প্রচেষ্টা। পুরুষদের সাথে সহযোগিতায় মাঠে ব্যাস্ত সময় পার করছে বাড়ির মহিলা ও শিশুরা।
‎ধান কাটা শেষ হয়েছে,এখন শুধু বাড়িতে নেওয়ার পালা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক এ বছর মণিরামপুর উপজেলার ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ক্রয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কৃষকদের অভিযোগ,মাঠ থেকে ধান সংগ্রহে পড়তে হচ্ছে বিপাকে। পাওয়া যাচ্ছেনা শ্রমিক,পেলেও তা চড়া মূল্যে। একজন শ্রমিক মেলাতে গেলে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি,সেটাও আবার একবেলা। অপরদিকে আবহাওয়ার দিকে তাকালে কৃষকের লালিত স্বপ্ন বিলিন হওয়ার উপক্রম। কখন জানি আঘাত হানে বৈশাখের কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি। চলতি এ প্রতিবেদকের কাছে দুঃখের কথা শেয়ার করেছেন,উপজেলা খেদাপাড়া ইউনিয়নের মোসলেম উদ্দিন নামের এক কৃষক।তিনি দাবী করেন,পরিবারের ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী সকলকে নিয়ে ধান বাড়িতে নেওয়ার কাজ করে চলেছেন। দুই বিঘা জমির ধান কেটে রেখে এখন লোকের স্বল্পতার কারনে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে মাঠে আসতে বাধ্য করেছে।
‎অধিকাংশ কৃষকের আক্ষেপ, খেয়ে না খেয়ে ধানের জমিতে শ্রম,অর্থ দিয়ে যদি শেষ সময়ে এসে সে ধান ঘরে তুলতে না পারে পরিবারের সদস্যদের চাওয়া-পাওয়া পূরনে ব্যার্থ হতে হবে।তাছাড়া,নিজেদের খাওয়ার জন্য যে চাউলের প্রয়োজন হয় সেটাও এ মাঠের ধান থেকেই।
‎প্রাপ্ত তথ্য বলছে,উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের কয়েক একর জমির ধান এখনো পানির নিচে। অনেকে আবার হাটুপানি থেকে ধান কেটে ছোট ছোট নৌকা করে তুলছেন পাড়ে। পশ্চিম অঞ্চলের মাঠ শুকনো থাকলেও পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে মাঠেই রয়ে গেছে একটি বড় অংশের চাষীর স্বপ্ন। তবে এত প্রতিকূলতা শেষে ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে কৃষকের মুখে ফুটবে আনন্দের হাসি।
‎এ বছর উপজেলা খাদ্য গুদামে ১৪৪০ টাকা প্রতি মন হিসাবে ২২’শ ৯৩ মেট্রিক টন ধান সরকারি ভাবে ক্রয় হবে বলে জানিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ পলাশ হোসেন।
‎এ বিষয়ে,মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার জানিয়েছেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলাতে সর্বমোট ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে প্রায় ১৬ হাজার ২শ’ ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। তারপরেও শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার আশংকায় দ্রুত কৃষকের ধান ঘরে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহ প্রদান করেছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews