
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শুক্রবার বিকেলে ভাঙ্গা বাজারসংলগ্ন কুমার নদে আয়োজিত এ নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো নারী শিশু-পুরুষ। দীর্ঘদিন পর ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন হওয়ায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত নৌকাবাইচে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ২৫ টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা ঘিরে দুই দিন আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দেয় বাড়তি উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ। দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই পাড়, সেতু, আশপাশের উঁচু ভবন ও গাছে ও বিভিন্ন স্থানে ভিড় করতে থাকেন দর্শনার্থীরা। ঢাক-ঢোল ও করতালির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে কুমার নদের পাড়। প্রতিযোগিতায় নৌকাগুলো দ্রুতগতিতে ছুটে চললে দর্শকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয় ব্যাপক উত্তেজনা।
এদিকে নৌকা বাইচ উপলক্ষে দু,পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী অন্যান্য নৌকার মাঝিদেরও পুরস্কৃত করা হয়। তাদেরকে রেফ্রিজারেটর, এলইডি টিভি পুরস্কার দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব মোল্লা, ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, “সংস্কৃতি বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নৌকাবাইচ একটি নির্মল বিনোদনধর্মী প্রাচীন জলক্রীড়া। আমাদের শিকড়ের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার এই খেলাটি ঐতিহ্য বহন করে। যুবসমাজকে মাদক থেকে বাঁচাতে নির্মল বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই।”
আয়োজক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিতভাবে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন গ্রামবাংলার প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য সৃষ্টি হবে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ। সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এটিকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দীর্ঘদিন পর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় মানুষ উচ্চসিত হয়েছে।