সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হারানো বিজ্ঞপ্তি! খুঁজে পেতে মানবিক সাহায্যের আবেদন ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় যশোর ও নড়াইলে এসআরবি-৬-এর কঠোর নজরদারি যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ হলেন প্রফেসর আব্দুস সালাম আজাদ লাইভে এসে নারীর আত্মহত্যা, থানায় মামলা শার্শা থানার ওসি শামিনুল’র বিরুদ্ধে অভিযুক্তের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ যশোরে উত্তরা হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু, অপচিকিৎসার অভিযোগ স্বজনদের বেনাপোলে পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ ভ্যানচালক আটক পুলিশ সুপারের বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপ পরিদর্শন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মণিরামপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ! দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাই মূল লক্ষ্য: এসআরবি-৬

লাইভে এসে নারীর আত্মহত্যা, থানায় মামলা শার্শা থানার ওসি শামিনুল’র বিরুদ্ধে অভিযুক্তের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের শার্শা উপজেলায় কায়বা ইউনিয়নের মালয়েশিয়া প্রবাসী মিন্টু রহমানের স্ত্রী চম্পা বেগম (২৮) পরকীয়া সম্পর্কের জেরে লাইভে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। গত ১৭ অক্টোবর দুপুরে তিনি লাইভে এসে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করলে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার পর ওসি শামিনুল হক স্থানীয় একটি মহলের সহযোগিতায় অভিযুক্ত কবিরুলের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দফায় দফায় বৈঠক করে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের হস্তক্ষেপে সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে রবিবার দুপুরে তিনি থানায় এজাহার গ্রহণ করেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

প্রবাসী মিন্টু রহমানের পরিবারের অভিযোগ, শার্শার ভবানীপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিন’র পুত্র স্কুল শিক্ষক কবিরুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চম্পা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাঁর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে বিয়ে না করায় চম্পা বেগম অভিমানে আত্মহত্যা করেন বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছেন।

ময়নাতদন্তের জন্য চম্পা বেগমের মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে শার্শা থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নিহত চম্পা বেগমের চাচা শ্বশুর শরফত আলী বলেন, আমাদের ছেলে মিন্টু রহমান দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী। ভবানীপুর গ্রামে আমার ছেলের শ্বশুরবাড়ির পাশে স্কুল শিক্ষক কবিরুলের সাথে আমাদের পুত্রবধু চম্পা বেগমের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভনে গোপনে আমাদের পুত্রবধুর সাথে কবিরুল অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং আমাদের ছেলের পাঠানো সকল টাকা-পয়সা কবিরুল আত্মসাত করেছে বলে জানতে পেরেছি। টাকা-পয়সা আত্মসাত করে আমাদের পুত্রবধুকে বিয়ে না করায় তিনি অভিমানে আত্মহত্যা করেছে বলে জেনেছি। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

নিহতের চাচা শ্বশুর আরিফ বিল্লাহ বলেন, কবিরুলের সাথে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে আমাদের বৌমা দুটো বাচ্চা রেখে আত্মহত্যা করেছে। আমরা কবিরুলের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই।

এবিষয়ে কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, স্কুল শিক্ষক কবিরুলের সাথে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে চম্পা বেগম আত্মহত্যা করেছে বলে আমি শুনেছি। আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও কিছু কুচক্রীমহল থানার ওসির সহায়তায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। আমি বাধা হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। আজ দুপুরে আমি নিজে উপস্থিত থেকে থানায় মামলা দায়ের করে এসেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কবিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে বাড়িতে না পাওয়ায় তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হকের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, চম্পা বেগমের আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা আসামীকে আটকের চেষ্টা করছি।

মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। গতকাল রাতে চম্পা বেগমের পক্ষে কে বাদী হবে সেটা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়ে বিধায় মামলা গ্রহণ করতে দেরি হয়েছে। এখানে কোন চাপ প্রয়োগ বা অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews