
নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের অভয়নগরে চুরির মামলা তুলে না নিলে মহিউল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া প্রবাসী হাবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের ক্ষতি করার হুমকি এবং স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী হাবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী শিরিনা বেগম (৩৭)। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী শিরিনা বেগম যশোরের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করে মামলাটি নিরপেক্ষ কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, শিরিনা বেগমের স্বামী হাবিবুর রহমান মালয়েশিয়া প্রবাসী। সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে তিনি যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জনৈক শহিদুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুরে তাঁর ভাড়া বাসার শয়নকক্ষের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারির লকার থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের নেকলেস, দুইটি স্বর্ণের রুলি, চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও তিনটি স্বর্ণের আংটি চুরি হয়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মোট ওজন আনুমানিক ছয় ভরি।
ভুক্তভোগী পরিবার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মোটামুটি নিশ্চিত হন যে, ওই সময় তাঁর বাড়িতে অভয়নগর থানাধীন মদিনাবাগ এলাকার আমিন উদ্দিনের পুত্র মহিউল ইসলাম বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং এ চুরি সংগঠিত করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী শিরিনা বেগম অভয়নগর থানায় একটি চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ১২, তারিখ ৮ জুলাই ২০২৬। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মহিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে মহিউল ইসলাম প্রবাসী হাবিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করছেন এবং মুঠোফোনে হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছেন।
অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে প্রবাসী হাবিবুর রহমানের স্ত্রী শিরিনা বেগম ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার সময় নওয়াপাড়ায় ভাড়াবাসার সামনে মহিউল ইসলাম ওই প্রবাসীর স্ত্রী’কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার পাশাপাশি তাঁর ছেলে-মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন অভিযুক্ত মহিউল। এসময় প্রবাসীর স্ত্রী শিরিানা বেগম ডাক-চিৎকার দিলে অভিযুক্ত মহিউল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে মহিউল ইসলাম তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর (০১৮১১-৬৬০০৩৪, ০১৪০৩-৬১৬৭৬৯) থেকে কল করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চুরির মামলা তুলে না নিলে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে তাঁর জিমেইল আইডি হ্যাক করে সাধারণ ছবিকে এআই দিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিওতে রূপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠিয়ে সম্মানহানি করার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে শিরিনা বেগম দাবি করেছেন, এসব বিষয়ে অভয়নগর থানা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুফল না পাওয়ায় তিনি যশোরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। চুরির মামলাটি নিরপেক্ষ কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের এবং সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মালয়েশিয়া প্রবাসী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি দেশে না থাকায় আমার নিকটাত্মীয় মহিউল ইসলাম আমাদের বাসার সকল কাজ-কর্ম করত। আমার বাড়িতে আসা-যাওয়ার সুযোগে কৌশলে আমার বাসার চাবি হস্তগত করে আমার পরিবার বাসায় না থাকার সময়ে গোপনে ঘরের তালা খুলে আমাদের আলমারিতে রক্ষিত নগদ টাকা ও গহনা চুরি করে পালিয়ে যায়। আমরা একাধিকবার তাকে গহনাগুলো ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছি। তিনি আমাদের কথায় কর্ণপাত না করায় আমরা অভয়নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভয়নগর থানা পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সন্দিগ্ধ আসামীদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন। অভিযুক্ত মহিউল জামিনে বের হয়ে এসে মামলা তুলে না নিলে আমার এবং আমার স্ত্র-সন্তানদের ক্ষতি করবে বলে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তাছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা-কর্মীদের দিয়েও আমি ও আমার পরিবারকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বিধায় আমি প্রবাস থেকে দেশে ফিরে এসেছি। বর্তমানে আমি আমার পরিবার নিয়ে চরম উৎকন্ঠার ভিতরে আছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিরিনা বেগম জানান, মহিউল আমাদের নিকটাত্মীয় এবং পেশায় একজন মিস্ত্রী। আমার বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে ইলেকট্রিক পণ্য মেরামত ও আত্মীয়তার সূত্র ধরে আমার বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। কৌশলে সে আমার বাসায় মেইন গেটসহ সকল তালার একসেট চাবি চুরি করে আমরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে আমার আলমারিতে থাকা টাকা ও গহনা চুরি করেছে। আমি আমার স্বামীকে জানিয়ে অভয়নগর থানায় অভিযোগ করেছি। চুরির ঘটনায় তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করলেও আমার টাকা ও গহনা উদ্ধার করেনি। এদিকে অভিযুক্ত মহিউল জামিনে বের হয়ে এসে আমাকে বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে ও রাস্তাঘাটে মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমার ছেলে-মেয়ে স্কুল কলেজে পড়ালেখা করে। অভিযুক্ত মহিউল যেকোন সময় আমার সন্তানদের ক্ষতি করতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করছি। তাই প্রশাসনের কাছে চুরির মামলা ও হুমকি-ধামকির বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামীকে শাস্তি প্রদান এবং চুরির মালামালগুলো উদ্ধার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মহিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, আমার ওই বাড়িতে যাতায়াত ছিল এটা সত্য। তারা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। থানা পুলিশ আমাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আমি জামিনে আছি। ওই পরিবারকে কোন হুমকি ধামকি দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম নুরুজ্জামান’র নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে আসামিদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হুমকি-ধামকির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।