বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শ্যামনগরে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক নির্ধারণে কর্মশালা ভাঙ্গায় গাছের চারা বিতরণ করল সাজেদা ফাউন্ডেশন সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোর মণিরামপুর ফাজিল মাদ্রাসার নতুন ভবনে অসংখ্য ফাটল,ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা! নিখোঁজের তিন দিন পর কপোতাক্ষ নদে মিলল ভ্যানচালক একলাসের মরদেহ যশোরে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিপিএম-সেবা পদক পাওয়ায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ওসির খুলনা মহানগরীর ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকা– কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু কেশবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মণিরামপুরে প্রত্যয় ও নবজীবন এনজিও’র নামে অর্থ কেলেঙ্কারি! নিখোঁজ প্রশান্ত ও সনজিৎ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে
আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর): মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রত্যয় সমবায় সমিতির পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস (সিন্টু) ও হিসাবরক্ষক মধুসূদন মন্ডল এবং নবজীবন কৃষি সমবায় সমিতির পরিচালক সনজিৎ বিশ্বাস কয়েক গ্রামের ৪’শ অধিক গ্রাহকদের আমানতের বিপুল পরিমাণ(প্রায় ১২ কোটি) অর্থ আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে স্ব শরীরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। আলোচিত এ ঘঠনায় প্রত্যায় সমবায় সমিতির হিসাবরক্ষক মধুসূদন মন্ডল উপজেলা সমবায় অফিসের সুব্রত নামের কোন এক কর্মচারীর গোপন আঁতাত করে এহেন কর্মকান্ড করেও প্রকাশ্যে বিচরন করে চলেছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর ধরে প্রত্যয় সমবায় সমিতি ও নবজীবন কৃষি সমবায় সমিতিতে সাধারণ সদস্যদের সঞ্চয় গ্রহণ ও ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যয় সমবায় সমিতির পরিচালক প্রশান্ত বিশ্বাস সেন্টু,হিসাবরক্ষক মধুসূদন মন্ডল ও নবজীবন সমিতির পরিচালক সনজিৎ বিশ্বাস  সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদি ডিপিএস ও সঞ্চয় প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে।
‎ভুক্তভোগীদের দাবি, চলতি মাসের ২ জুলাই প্রশান্ত বিশ্বাস চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।তবে প্রত্যায় সমিতির সুচতুর হিসাব রক্ষক মধুসূদন মন্ডল উপজেলা সমবায় অফিসের সুব্রত কুমারের সাথে গোপনে যোগাযোগ রেখে সে কিছুই জানেনা বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য আছে, এ ঘঠনা জানাজানি হলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে বৃহস্পতিবার গোপনে উপজেলা সমবায় অফিসের সুব্রত কুমারকে মেনেজ করে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিত দাসের দেখা করতে যান। দূর্ভাগ্যবশত তথ্য সংগ্রহে সে সময় কয়েকজন সাংবাদিক সমবায় অফিসে অবস্থান করায় গ্যাড়াকলে পড়ে হিসাবরক্ষ মধুসূদন মন্ডল। মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন” আমি জাস্ট ফিল্ড অফিসার কালেকশন করতাম,তারপর বুজ করে দিতাম। অথচ,মধুসূদনের বিরুদ্ধে অফিযোগ তিনি টাকা সংগ্রহের লিস্টে নাম থাকলেও জমাকৃত টাকা লোপাটের জন্য একটি বৃহৎ অংশের সদস্যদের নাম চুড়ান্ত তালিকাভুক্ত করতেন না।
‎অন্য দিকে ৫ জুলাই দুপুর এক টার দিকে একই এলাকার নবজীবন কৃষি সমবায় সমিতির পরিচালক সনজিৎ বিশ্বাস বাড়ি থেকে পরিবার’সহ উধাও হয়েছে।
‎মঙ্গলবার ৭ জুলাই সকালে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত ফেরতের দাবি জানান।
এ সময় কয়েকজন সদস্য কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং একজন নারী সদস্য অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তথ্য মতে, প্রত্যায় সমবায় সমিতির ৩’শ অধিক সদস্যের বই প্রতি ৪,৬,৮,১০ লাখ গড় মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি ও নবজীবন কৃষি ঋনদান সমবায় সমিতির ১’শ অধিক গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ কারীরা মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফটকে হতাশা প্রকাশ করেছে।
‎অভিযুক্ত প্রশান্ত বিশ্বাসের(সেন্টু) বাবা জানান, চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে ২ জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমাদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে কোথায় আছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
‎ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, জীবনের সঞ্চিত অর্থ সমিতিতে জমা রেখে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে আমানতের অর্থ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
‎এ বিষয়ে কথা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহির দায়ান আমিন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বিষয়টি সমবায় কর্মকর্তার উপর দায়িত্বপ্রদান করেছেন বলে জানিয়েছেন। দুটি সমিতির পরিচালনা পর্ষদকে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে সমবায় কর্মকর্তা রনজিত দাস চলতি এ প্রতিবেদককে জানান, কয়েকজন সদস্যের নাম পর্যন্ত সমিতির চুড়ান্ত সদস্য তালিকায় নাই।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews