
#সরকারি রাস্তা দখল করে প্রাচীর
#মেলেনি প্রশাসন ও বার সমিতির প্রতিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরের নিউ বেজপাড়া (তালতলা কবরস্থান রোড) এলাকায় আদালতের রায় অমান্য করে এবং পৌরসভার নথিভুক্ত সরকারি রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে একটি অসহায় পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী আইনজীবী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটি গত মে মাস থেকে কার্যত ‘গৃহবন্দি’ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরের মেইন গেটে ঘ্যাস (ইটের খোয়া/বালু) ফেলে ও অবৈধ দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় কোতোয়ালী মডেল থানা, পৌরসভার প্রশাসক এবং যশোর জেলা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পায়নি। ফলে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে পরিবারটির।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেজপাড়া মৌজার ১৩২৭ দাগের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন মৃত খুরশীদ আলমের স্ত্রী শবনম বেগম (৫৬)। তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে বাজারে ও মেইন রোডে যাতায়াতের জন্য ১৩৩৪ দাগে ১২ ফুট প্রশস্ত একটি সরকারি রাস্তা রয়েছে। যা বিগত ৬০ বছর ধরে এলাকাবাসী ব্যবহার করছেন। কিন্তু প্রতিবেশী অ্যাডভোকেট শহীদ আনোয়ার পাভেল , তার ছেলে শাহাদাৎ এবং স্থানীয় সোহরাব ও হাবিবসহ একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তাটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী শবনম বেগম জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য তিনি ৪ মাস ঢাকায় ছিলেন। এই সুযোগে বিবাদীরা তাদের গেটের সামনে অবৈধভাবে প্রাচীর নির্মাণ করে পথ আটকে দেয়। পরবর্তীতে বাধা দিলে বিবাদীরা ভাঙার আশ্বাস দিয়েও কালক্ষেপণ করতে থাকে। এর মধ্যে তার স্বামী মারা গেলে পরিবারটি পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়ে।
সর্বশেষ গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট পাভেল তার দলবল ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে শবনম বেগমের বাড়ির মেইন গেটের সামনে ঘ্যাস ফেলে পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। এতে বাধা দিলে ‘আমি অ্যাডভোকেট, আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না’ বলে ক্ষমতা প্রদর্শন করা হয় এবং লাঠিসোটা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।
জানা গেছে, অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট শহীদ আনোয়ার পাভেলের সাথে এই জমি নিয়ে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান ছিল। যা পরবর্তীতে আদালত থেকে নিষ্পত্তি হয়। এছাড়া যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে উক্ত স্থানটিকে ‘জনসাধারণের চলাচলের সরকারি রাস্তা’ হিসেবে ম্যাপ দেখে স্পষ্ট মতামত প্রদান করে। পাশাপাশি ‘যশোর মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশন’ নামক একটি সংস্থাও তদন্ত শেষে রাস্তার পক্ষে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু কোনো আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকেই তোয়াক্কা করছেন না অভিযুক্তরা।
উপায়ান্তর না পেয়ে অসহায় শবনম বেগম প্রশাসনের প্রায় প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়েছেন। গত ২১ মে কোতোয়ালী মডেল থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ ও হুমকির লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর যশোর পৌরসভার প্রশাসকের নিকট অবৈধ প্রাচীর উচ্ছেদের আবেদন জানানো হয়। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনজীবী হওয়ায় গত ২১ মে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরও একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন ভুক্তভোগী নারী। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ঘটনার দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও কোনো সংস্থা বা প্রশাসন অবরুদ্ধ পথটি উন্মুক্ত করতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সরকারি ম্যাপভুক্ত রাস্তা দখল করে একটি বিধবা ও অসহায় পরিবারকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, একজন আইন পেশার মানুষ হয়ে এভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি রাস্তা বন্ধ করা এবং একটি পরিবারকে গৃহবন্দি করা চরম অমানবিক ও বেআইনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা বর্তমানে চরম আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় তাদের ওপর বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবারটিকে এই ‘অবরুদ্ধ’ দশা থেকে মুক্ত করতে এবং সরকারি রাস্তাটি সাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।#