রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

মাদকে ছয়লাব যশোরের পুলেরহাট-কৃষ্ণবাটি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

যশোর প্রতিনিধি:যশোর শহরতলী পুলেরহাট কৃষ্ণবাটি (আমিননগর) মাদকের ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুধু মাদকই নয়, কিশোর গ্যাংও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাত বাড়লেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্য। সেবন ব্যবসা দুটোই চলছে ওপেন সিক্রেট হিসেবে। বিভিন্ন স্পটেতো বটেই, অলি-গলিতে ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের বাণিজ্য। কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছেনা মাদকের আগ্রাসন। মাদকের কারবারের পাশাপাশি অনলাইনেও মাদক কেনা-বেচা চলছে। অনলাইনে অর্ডার করলে মূহুর্তেই ক্রেতার দোড়গোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদসহ সব ধরনের মাদক। ভ্রাম্যমাণভাবেও মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। এক সময়ের আলোচিত রায়পাড়াকে হার মানিয়েছে কৃষ্ণবাটি (আমিননগর)। এতে করে এলাকায় চুরি ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাদক সক্তর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি বাড়ি বেড়েছে অশান্তি ও চুরি। মাদকে জড়িয়ে পড়ছে নারীরাও। বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
এদিকে, কৃষ্ণবাটি গ্রামের মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হয়েছে। গত ৩ জুলাই কমিটির প্রচার সম্পাদক আবুল কালামের বাড়ি থেকে তার অটো ভ্যানটি রাতে চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আবুল কালাম যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ওই এলাকার জাকিরের ছেলে জয়, রানার ছেলে আশিক, লিটনের ছেলে নূর আলী, লাল্টুর ছেলে ইব্রাহিম, শরিফুলের ছেলে তুফানকে অভিযুক্ত করেছেন।
এ ঘটনার পর ওই এলাকায় বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। পরে এলাকার মানুষ পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতয়ালি মডেল থানার এসআই রইচ উদ্দিন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যাতা পেয়েছি। ওসি স্যারকে বিষয়টি জানিয়েছি। এলাকার লোকজনকে ওসি স্যারের সাথে কথা বলতে বলে এসেছি।
অভিযোগ রয়েছে, মাদকের ব্যবসার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেকেই ও স্হানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত। আর এইজন্যই এলাকার সাধারন মানুষ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না। এখানকার মাদক কারবারিদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। হাত বদলের মাধ্যমে সেখানে মাদকের কারবার করে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সব ধরণের মাদকের কেনা-বেচা চলে।
এদিকে মাদক সেবনকারীদের একটি বড় অংশ কিশোর. যুবা , তরুণ ও যুবক। এছাড়া শিক্ষার্থীদের একাংশও মাদক সেবনে যুক্ত হয়ে পড়েছে। মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে তারা নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ চুরি, ছিনতাই, অপহরণ ও প্রতারণার মত অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। যা ভয়ংকর একটা ব্যাপার। কে কিশোর, আর কে যুবক, আর কে শিক্ষার্থী তা ভেবে দেখছে না মাদক ব্যবসায়ীরা। টাকা পেলেই তারা তাদের হাতে তারা গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ধরিয়ে দিচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews