
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এক ছাদের নিচে সংসার পেতেছিলেন ভিন্ন ধর্মের এক নারী ও পুরুষ। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের এই ‘লুকোচুরি’ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্থানীয়দের সন্দেহ আর পুলিশের অতর্কিত অভিযানে ফাঁস হয়ে গেছে তাদের গোপন সংসার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কোটচাঁদপুর উপজেলাজুড়ে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে।রোববার (১৮ মে) দুপুরে শহরের ব্রিজঘাট মোড় এলাকার একটি চারতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিন (৪৬) ও বাসনা রানীকে (৪২) আটক করে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক নাসির উদ্দিন মহেশপুর উপজেলার পুড়াদা গ্রামের গনি মাস্টারের ছেলে। অন্যদিকে, বাসনা রানী যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বর্ণী গ্রামের বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জননী। তার স্বামীর নাম শ্যামল কুমার নায়েক।ঘটনার চার দিন আগে, গত ১৫ মে ব্রিজঘাট মোড় এলাকার বাসিন্দা তোতা মিয়ার চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তারা। নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে একে অপরকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত গোপনে সেখানে বসবাস শুরু করেন।ভিন্ন ধর্মের দুই ব্যক্তি হঠাৎ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এলাকায় নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে আসায় শুরু থেকেই স্থানীয় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তাদের আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা থাকায় কৌতুহলী প্রতিবেশীরা গোপনে বাসনা রানীর প্রকৃত পরিচয় ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের আসল পরিচয় বেরিয়ে এলে বিষয়টি বাসনা রানীর পরিবারকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তারা দ্রুত কোটচাঁদপুরে ছুটে আসেন।পরবর্তীতে রোববার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বাসনা রানীর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ও সহযোগিতায় পুলিশ ওই ভবনে অভিযান চালায়। এ সময় ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।
এলাকার চা-দোকানি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার মুখেই এখন এই ‘ভাড়াটে সংসার’ নিয়ে সমালোচনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে তা আমরা ভাবিনি। পরিবার এবং ধর্মের রীতি-নীতি উপেক্ষা করে তারা যা করেছে তা সামাজিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত কাজ। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার শান্তি নষ্ট হয়েছে।”
আরেক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়ার নামে তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন, যা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি বাজে উদাহরণ। পুলিশের এই অভিযানে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান,ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে বসবাসের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে কোটচাঁদপুরের মানুষের মধ্যে এখন নানা কানাঘুষা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে সচেতন মহলও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন।