
বিএম সাব্বির হাসান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:-দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত শহর মণিরামপুর বাজারের নিত্যদিনের তীব্র যানজট এখন জনদুর্ভোগের স্থায়ী রূপ নিয়েছে। সকাল, দুপুর কিংবা রাত-দিনের প্রায় প্রতিটি সময়ই যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পথচারী ও দূরপাল্লার পরিবহন যাত্রীরা। প্রায়ই দেখা যায়, যানজটে আটকে পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় হুইসেল বাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে সড়ক সংস্কার করা হলেও তা প্রশস্ত করা হয়নি। ফলে যানজট নিরসনে স্থায়ী সমাধান আজও অধরাই রয়ে গেছে।অন্যদিকে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাতের অধিকাংশই এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কয়েকদিন পরই আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাত। ফলে যানজট পরিস্থিতিও থেকে যাচ্ছে আগের মতোই। মণিরামপুর বাজারের যানজট নিয়ে ইতিপূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিনিয়ত ভাইরাল হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের ভিডিও। এসব পোস্টের মন্তব্যে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে যশোরের রাজারহাট থেকে মণিরামপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে মিল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের ভেতরে সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়নি। বাইরে কিছু ড্রেন নির্মাণ হলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে।এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বাজার এলাকার কিছু প্রভাবশালী ভবন মালিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাস্তা প্রশস্তকরণের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বড় বড় ভবন অক্ষত রেখেই সীমিত পরিসরে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা শহরে জনগণের স্বার্থে ভবন অপসারণ করে রাস্তা প্রশস্ত করা হলেও মণিরামপুরে তা করা হয়নি।এদিকে যানজট নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও সড়কে লোড-আনলোড বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিকদের লেখালেখি বা সামাজিক চাপ তৈরি হলেই প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে, পরে আবার তা শিথিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে মণিরামপুরবাসীর একটাই দাবি-যানজটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত বাজার এলাকার প্রধান সড়ক প্রশস্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় দিন দিন বাড়তেই থাকবে জনদুর্ভোগ।