শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে জমকালো আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ ক্ষমতার উৎস কিঃ ‎অভিযোগ কারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন মণিরামপুর উপজেলা আনসার কর্মকর্তা রউফ! বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে শীর্ষ দশে যবিপ্রবির ড. মো. আমিনুল ইসলাম গলাচিপায় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেওয়ার অভিযোগ দিন বদলের গল্প আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধির নায়ক চন্দনা রানী বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় যবিপ্রবির ১১ গবেষক শ্যামনগরের চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনে পাক্ষিক পরীক্ষা, অভিভাবক সমাবেশ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত জলাবদ্ধ মাঠ, শ্রেণিকক্ষের সংকট; তবু এসএসসিতে সাফল্য ভাঙ্গা বাজারে গভীর রাতে দোকান নির্মাণ, সরকারি জমির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন হারানো মোবাইল উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে দিল কেশবপুর থানা পুলিশ

গলাচিপায় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিনা পারভিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, হাজিরা খাতায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেখা যায় না।

রিনা পারভিন উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান)। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের স্ত্রী। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান) পদে নিয়োগ পান। ২০১৭ সালের ১ মে তিনি এমপিওভুক্ত হন। এর আগে তিনি একই বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিনা পারভিনকে তাঁরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেখতে পান না। বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। তবে হাজিরা খাতায় তাঁর উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলে রিনা পারভিন নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, বিষয়টি গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।
গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি গলাচিপায় ১১ বছর ধরে কর্মরত আছি। তিনি বিদ্যালয়ে যান না—এ বিষয়টি জানতে পারার পর থেকে গলাচিপা উপজেলায় যত শিক্ষা কর্মকর্তা এসেছেন, প্রত্যেককেই জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়ে রিনা পারভিনকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা বলছি যে, মানসিকভাবে আমি প্রস্তুত নই। এ বিষয়ে আমি বক্তব্য না দিলে কেউ দেবে না।’
গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূলত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। শুধু লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির ওপর নির্ভর করে। তারাই শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়, বেতন দেয় এবং সার্বিক বিষয়ে তদারকি করে। আমরা শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারি।’
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে রিনা পারভিনের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির নথি, হাজিরা খাতা, বেতন-ভাতা গ্রহণের তথ্য এবং বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews