
নিজেস্ব প্রতিবেদক: যশোরের মণিরামপুর উপজেলা আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা আব্দুর রউফে’র (পি,ভি,এম) বিরুদ্ধে অন্তহীন দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ থাকা সত্বেও দূর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,সেচ্ছা-চারিতা সহ “রক্ষক হয়ে ভক্ষকের” ভূমিকায় থেকে একের পর এক নিয়মিত অপরাধ করলেও বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার বিরুদ্ধ বাস্তবিক অসংগতি সহকারে সংবাদ প্রকাশ হলেও অজানা কোন ক্ষমতাবলে স্ব পদে বহাল থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা উপজেলা আনসার-ভিডিপির দলনেতা রবিউল ইসলাম’কে হুমকি দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও স্থানীয় দৈনিক যশোর বার্তা সহ কয়েকটি পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে এ মর্মে স্থানীয় একটি কুচক্রের সহযোগিতায় দৈনিক প্রজন্ম একাত্তর পত্রিকায় ৬ই অক্টঃ(মঙ্গলবার) একটি ভূয়া প্রতিবাদ দিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা আনসার কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এখনো বীরদর্পে তার আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে আঃ রউফ।
উল্লেখ্য,রাষ্ট্রীয় সম্মানের স্বর্ণ পদক দিতে অর্থ আত্মসাৎ করা এই ধরণের জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গৌরবময় ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে সমস্ত অসংগতি ও অভিযোগ শতভাগ নির্ভুল থাকা সত্বেও আঃ রউফ বহালে থাকাটা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা,সততা এবং ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তাহার এই রূপ কার্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতারণা এবং গুরুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
একই সাথে মাঠপর্যায়ের সৎ, যোগ্য এবং প্রকৃত পরিশ্রমী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার ও মনোবল খর্ব করা রাষ্ট্রদ্রহী অপরাাধের সমতূল বলে মনে করছেন একাধিক আনসার সদস্য।হেলাঞ্চী-কৃষ্ণবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণার্থী প্রত্যেকের নিকট থেকে মাথা প্রতি ৬৪ জনের কাছ থেকে ১০০০-১২০০ টাকা নেওয়া,প্রতিদিনের নাস্তার খরচ বাবদ জন প্রতি ৬৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাত্র ১৫ টাকা(১টি কলা,১প্যাকেট কেক,১টি সিংগাড়া) নাস্তা খরচ করা, আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে পূজার ডিউটির জন্য প্রত্যেকের নিকট ১০০০ টাকা করে দাবি করা, বিশ্বস্ত তথ্যসূত্র বলছে, খেদাপাড়া ইউনিয়নের ১০দিনের ঐ প্রশিক্ষন ক্যাম্পে ৬৪ জন সদস্য মণিরামপুর উপজেলার নাগরিকের বাধ্যতামূলক থাকলেও নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ইমা খনাম নামে এক সুন্দরী নারীর নাম প্রশিক্ষনার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার সত্যতা ইমা খানম নিজেই স্বীকার করেছে।তিনি বলেছেন, উপজেলা কর্মকর্তার আঃ রউফের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেের জেরে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এছাড়াও ২ হাজার টাকা বরাদ্দকৃত সম্মানী ধার্য্য থাকলেও দূর্নীতি করে ২ জনের ৪ হাজার টাকা নিজের পকেটে ভরেছে। অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগকারী দলনেতা মোঃ রবিউল ইসলাম মাদক সম্প্রতি কারবারীকে আটক করার সময় মারাত্মক জখম হই এ মর্মে যশোর অফিস বরাবর উপজেলা কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তাকে জোর পূর্বক মিথ্যা আবেদন করান। এ সমস্ত অভিযোগ করা দলনেতা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারীকে আটক করলেও সে সময় আমি কোন প্রকার জখমের শিকার হয় নাই। কিন্তু চাপ সৃষ্টি করে আর্থিক সহায়তা পাইবার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় যশোর বরাবর লিখিত আবদেন করান আব্দুর রউফ। তিনি আরো বলেন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ও লোক মারফতে বিভিন্ন সময়ে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আঃ রউফ। যার জন্য আমি ও আমার পরিবার চাকুরী সহ জীবনের ঝুঁকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তথ্য সূত্র বলছে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা থাকা কালীন আব্দুর রউফ’কে নারী কেলেংকারীর সত্যতা মেলাতে দাপ্তরিক শাস্তির ব্যাবস্থায় বদলি হিসাবে সুনামগঞ্জের এক উপজেলার দায়িত্বে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তিনি ৪ মাস আগে মণিরামপুরে বদলি নিয়ে আসেন।
এদিকে সমস্ত মহলকে ম্যানেজ করে মণিরামপুর উপজেলা কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত থেকে বিভিন্ন পন্থায় অভিযোগকারীকে একের পর এক হুমকি দেওয়া হচ্ছে ও মিথ্যা প্রতিবাদের ব্যাপারে জানতে আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মণিরামপুর উপজেলা কর্মকর্তা অভিযুক্ত আব্দুর রউফে’র বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আমাকে চেনে জানে। তিনি নিজেই তাদের প্রজন্ম একাত্তর পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ছেপেছে। আমি জানতাম না,পরে আমাকে কল করে জানাই,আপনার বিরুদ্ধে নিউজ দেখে আমি ব্যাথিত হয়ে স্ব উদ্যগে প্রতিবাদ ছেপে দিয়েছি।
এ বেপারে জানতে যশোর জেলা আনসার কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোনকলের সাড়া দেননি। সংবাদ প্রকাশের স্বার্থে চলতি এ প্রতিবেদক মণিরামপুর উপজেলা আনসার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের তদন্তে আসা প্রতিনিধি দলের সাথে কথা বললে,এ বিষয়ে তারা তদন্তে আছেন বলে জানান। উপজেলা আনসার ভিডিপির উপজেলা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় আসন্ন দূর্গা পূজার ডিউটিতে তাদের অভ্যন্তরীন গোলযোগের আশংকা বিরাজ করছে।