
মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন
পাপন চৌধুরী;ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পদ্মপুকুর মৌজায় পৈতৃক ও রেকর্ডীয় জমি অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকালে পদ্মপুকুর গ্রামের ভুক্তভোগী মো. সোহেল রানা ও ফারুক আজমের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. সোহেল রানা। লিখিত বক্তব্যে তিনি তাদের জমির মালিকানার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বলেন, পদ্মপুকুর ২৮ নম্বর মৌজার সিএস ৯৯ নম্বর খতিয়ান থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পরবর্তীতে এসএ ৪৫ নম্বর খতিয়ানে আব্দুল আজিজ বিশ্বাস স্বত্ব লাভ করেন। পরে আদালতের ১৬৬/১৬ নম্বর বাটোয়ারা মামলার রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে ৪৩৯ ও ৪৪০ নম্বর খারিজ খতিয়ান খোলা হয় এবং নিয়মিত সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করা হয়।তিনি আরও বলেন, ডিক্রিপ্রাপ্ত ও নামজারিকৃত মালিকদের কাছ থেকে বৈধ ক্রয়/কবলা দলিলের (ভায়া দলিল) মাধ্যমে তারা দুই ভাই ওই জমি ক্রয় করে নিজেদের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন। তাদের নামজারি খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০১৪।
সোহেল রানা দাবি করেন, পরবর্তীতে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ঝিনাইদহে দায়ের করা ২৪৪/১৬ নম্বর মামলায় তাদের পক্ষে একতরফা রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ে আরএস রেকর্ড সংশোধন করে তাদের নামে জমি রেকর্ড করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আদালতের রায় ও আইনগত নির্দেশনার ভিত্তিতে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ২০২৬-১০০০১৩ নম্বর খতিয়ান জারি করা হয়। এছাড়া তারা নিয়মিত সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আজম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের কাছে সিএস, এসএ, আদালতের ডিক্রি, ভায়া দলিল, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি এবং হালনাগাদ খাজনা-দাখিলাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এরপরও একটি মহল বেআইনিভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি নিজেদের অবস্থানকে বৈধ প্রমাণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
তিনি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের বৈধ মালিকানা ও দখল সুরক্ষার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমর্থন জানান। তারা অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে জমি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জমির মালিকানা সংক্রান্ত তাদের দাবি ও আদালতের নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।