
মোঃ ফজলুল কবির গামা;বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের প্রবীণ ও সাহসী সাংবাদিক শেখ নজরুল ইসলাম আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কোটচাঁদপুর শহরের সিনেমা হলপাড়ার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
শেখ নজরুল ইসলাম সিনেমা হলপাড়ার মরহুম শেখ আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে কোটচাঁদপুর শহরজুড়ে। প্রিয় সহকর্মী ও গুণগ্রাহীর শেষবারের মতো মুখটি দেখতে তাঁর বাসভবনে ছুটে আসেন আত্মীয়-স্বজন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মুহূর্তেই বাড়ির আঙিনা ভারী হয়ে ওঠে শোকের আবহে। স্বজনদের আহাজারি আর সহকর্মীদের নীরব কান্নায় সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর কোটচাঁদপুর সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মসজিদ চত্বরে শেখ নজরুল ইসলামের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাঁকে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শেখ নজরুল ইসলাম আশির দশক থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। কোটচাঁদপুরের মানুষের সুখ-দুঃখ, এলাকার নানা সমস্যা, সামাজিক অসঙ্গতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। সত্য ও মানুষের পক্ষে তাঁর নির্ভীক অবস্থান তাঁকে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
সাংবাদিকতা ছিল তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, মানুষের কথা বলার এক শক্তিশালী মাধ্যম। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, সাহস ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেই ভূমিকা পালন করে গেছেন। সাংবাদিক সমাজে তিনি একজন প্রবীণ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
প্রেসক্লাব কোটচাঁদপুরের বর্তমান সভাপতি কাজী মৃদুল শোক প্রকাশ করে বলেন, “আজ আমরা কোটচাঁদপুরের একজন প্রবীণ ও সাহসী সাংবাদিককে হারিয়েছি। আশির দশক থেকেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন এবং মানুষের কথা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। প্রায় ২০ বছর তিনি প্রেসক্লাব কোটচাঁদপুরের সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে তাঁর অবদান আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
শেখ নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রেসক্লাব কোটচাঁদপুরের উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক খায়রুল হোসেন সাথী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক মেয়র জাহিদুল ইসলাম। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শেখ নজরুল ইসলামের চলে যাওয়ায় কোটচাঁদপুর হারাল সাংবাদিকতার অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ, সাহসী ও নিবেদিত কণ্ঠকে। তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, মানুষের জন্য কথা বলার সাহস এবং সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।