
এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ শয্যা সংকট,রোগীর চাপ,চিকিৎসক কম,সেবা দিবো কিভাবে! তার সাথে সময়ে সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেডিসিন সংকট,এভাবে কি রোগী ও স্বজনদের মন রক্ষা করা যায়! ইতিপূর্বে এমন বিভিন্ন দায়সারা বক্তব্য ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধায়ক ডাঃ ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল।
দৈনিক চিত্র বলছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ,সকাল ১০টা বাজলেও আউটডোর চেম্বারে ডাঃ না বসা,উপসর্গ দেখেও রোগ নির্নয়ে ব্যার্থ কর্তব্যরত চিকিৎসক,পরিছন্নতা কর্মীদের সেচ্চাচারিতা সহ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও গুরুতর অভিযোগ যে,আবহাওয়া জনিত রোগে আসা শিশুদের জরুরী নেবুলাইজার সলিউশন নাই ১ মাস,দেখা যায়নি হাম ও ডেঙ্গু রোগীর বিশেষ কোন কর্নার,সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কর্তৃপক্ষের অরক্ষিত গ্যারেজে নেই কোন সু-ব্যবস্থা,আবার সূর্য ডোবার সাথে সাথে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকে জ্বলেনা আলো,সন্ধার পর হতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে বহিরাগত ও স্থানীয় কিশোর গ্যাংদের চলাচলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেষ্টনী হয়ে ওঠে অনিরাপদ।
তথ্য মোতাবেক,শনিবার (১০ই অক্টঃ) সকাল ১০ট বাজলেও ২য় তলায় ২১১, ২১২,২১৩ নং কক্ষে বসেন নি ডাক্তার,তালাবদ্ধ আল্ট্রা ও স্টোর রুম। নিচতলায় ১১৭ নং কক্ষে ১জন,১১৮ নং কক্ষে ১জন,১২০ নং কক্ষ ফাঁকা,১২৫নং শিশু কর্নারে ১জন,১২৬নং গাইনী বিষয়ের কক্ষে নেই ডাক্তার। সংশ্লিষ্ট কক্ষের কয়েকটির ডাক্তার উপরে রাউন্ডে আছে দাবী করলেও ৩য় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে ডাঃ ফরিদুল ইসলাম ছাড়া আর কোন ডাক্তারকে দেখা যায়নি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পৃথক দুটি ভবনে। যার ভুক্তভোগী মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হতে আসা সেবা গ্রহীতারা। অনেকে ডাক্তার না পেয়ে দেওয়ালে ভর দিয়ে দাড়িয়ে,কেউ আবার বিরক্ত হয়ে বসে পড়েছেন,আবার অনেকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবাদানকে প্রহসনের সাথে তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। শনিবার সকালে ১০টা ৩০মিঃ নাগাত সরেজমিনের তথ্য সংগ্রহ সবচেয়ে বেশি দূরাবস্থা দেখা গেছে ১২৬নং কক্ষের সামনে গর্ভবতী নারীদের দীর্ঘ লাইন।
ল্যাব ও ফার্মেসিতে চলছিলো কার্যক্রম,জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের তথ্য ও বাস্তবিক চিত্রে চলতি এ প্রতিবেদকের কাছে তথ্য আছে শনিবার শয্যার বিপরীতে আবহাওয়া জনিত রোগে সকল বয়সী রোগীর ভর্তি সংখা ছিলো তিনগুন,আর তাতেই নাকাল চিকিৎসকেরা। তথ্য আছে,গেলো সেপ্টম্বর মাসে সেবা নিতে মণিরামপুর হাসপাতালে আসা এক নারীর স্বর্ণের চেইন ও পার্টস চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্র।একই মাসে হাসপাতালের অরক্ষিত গ্যারেজ হতে এক রোগীর স্বজনের মোটরসাইকেল চুরি হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীর শয্যার পাশ থেকে মোবাইল চুরিও হয়েছে। উপরিউক্ত প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে বার বার বলা হলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা এ পর্যন্ত নেননি তত্বাবধায়ক ডাঃ ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও বেস্টনী নিরাপত্তায় নিয়োগকৃত আনসার সদস্যরা অভিযোগ করেছেন,সন্ধার পরে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। টিএসও স্যারকে বার বার বলা হয়েছে, প্রধান ফটক হতে বেষ্টনীর সমস্ত এরিয়ায় স্থাপনকৃত লাইট একটিও জ্বলেনা। আনসার সদস্য বলেন,সন্ধার পর কার ভ্যান কে নিয়ে যায়,কে কোথায় কখন যাচ্ছে এ গুলো দেখা সম্ভব হয়না।
এদিকে সেবা না পেয়ে সেবার নামে প্রহসনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছে এক শিশুর পিতা-মাতা। পৌরসভার তাহেরপুর ওয়ার্ডের ১০ মাসের শিশু বায়োজিতকে পরপর ৩ দিন ১২৫ নং কক্ষের ডাঃ ফাতেমার দেখালেও উপসর্গ দেখে বলতে পারেন নি রোগের নাম,দিয়েছেন ৫টি টেস্ট। পরবর্তীতে ডাঃ ফাতেমার নিকট রোগের উপসর্গে হামের কোন লক্ষন আছে কিনা সেটা জানতে চাইলে তিনি না বলে উড়িয়ে দেন। অথচ,গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশু অভিজ্ঞ ডাক্তার চন্দ্র শেখর কুন্ডু নিশ্চিত করেন বায়োজিতের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছ ও অবস্থা গুরুতর। ডাঃ এর দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক শুক্রবার(১০ই অক্টোবর) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঐ শিশুকে নেবুলাইজার সলিউশনের গ্যাস দিতে গেলে ২য় তলায় নার্সেরা জানান,তাদের স্টকে বিগত ১মাস ধরে সংকট চলছে। এ সমস্ত অভিযোগ করেছেন,অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়া নারী নাজমুন নাহার।

শনিবার সকাল ১০টা বাজলেও ডাক্তারদের পাশাপাশি আউটডোর,২য় ও ৩য় তলার মেঝোতে নোংরা পরিবেশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বারান্দায় এলোমেলো অসংখ্য ডাবের খোসা,প্রতিটি বেডের নিচে ও চারপাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ দেখে রোগর স্বজনদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান,সকাল হতে এখনো পরিষ্কার করতে আসেনি কেউ। এভাবে কি এখানে থাকা যায়। এদিকে মহিলা ওয়ার্ড চিকিৎসাধীন এক নারী অভিযোগ করেন,বাথরুমের ভেতর গর্ভবতী নারীদের ও সদ্য প্রসূতির সমস্ত ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে ভেতরে যাওয়া যায়না।সব ময়লা দিনের পর দিন পড়ে থাকে,এখানে আসলে ভালো মানুষও অসুস্থ্য হয়ে পড়বে। রবিবার(১২ই অক্টঃ) সকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার ইসিজি করার পরামর্শ দেন,কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভুল রিপোর্ট দিচ্ছে মেশিন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যদি জনপ্রতিনিধিরা সঠিক সেবা না পান তাহলে সাধারণ মানুষ কোন ধরনের সেবা পায় এ নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ সম্পাদকের ছেকে তোহা। একইদিনে দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন মাসুদ পারভেজ অভিযোগ করেন, এ হাসপাতালে কি কিছুই পাওয়া যায়না। স্যালাইন কিনে এনে দিলেও সামান্য কেনালা সেটআপ কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনা। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোর কিপার সাইফুল ইসলামের কাছে স্টক আছে কিনা জানতে চাইলে,তিনি বলেন টিএসও সারের কাছে চোনেন,উনিই সব জানে। হাসপাতলের
নির্ভর যোগ্য তথ্য সূত্রের দাবী, হাসপাতাল চলছে হাওয়ার উপর,বার বার এসব নিয়ে অভিযোগ অসংগতি জানালেও কোন ধরনের ব্যবস্থা নেইনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধায়ক ডাঃ ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল।
উল্লেখিত অভিযোগ ও অসংগতির বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনকে অবগত করলে তিনি বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।