
ইমরান হোসেন, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে ঘেরের পানি আটকে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার অভিযোগে একটি ঘেরের বেড়ি কেটে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হাড়িয়াঘোপ গ্রামের হাজরা ও বেনাকুড়া বিল এলাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, পানি আটকে রাখায় বাড়িঘরে পানি ওঠার পাশাপাশি প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির আমন ধান ও আগামী মৌসুমের সরিষা চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শিরাশুনি গ্রামের মো. আবু বক্কার মোলঙ্গীর ছেলে আতিয়ার মোলঙ্গী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ঘেরের পানি আটকে রেখেছিলেন। এতে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা।
অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ঘেরের বেড়ি কেটে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুর রহমান শেখ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ছাড়া কেশবপুর থানা পুলিশের সদস্য, আনসার-ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘেরের বেড়ি কেটে দেওয়ার পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তাঁদের আশা, পানি দ্রুত নেমে গেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিজমিতে আবারও স্বাভাবিকভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, ঘের পরিচালনার কারণে যাতে জনবসতি ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে ঘেরমালিকদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। স্থানীয়দের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি ও জনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পানি নিষ্কাশনের পথ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যাতে ঘেরের পানি আটকে একই এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।