মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের জন্মদিনে বেনাপোলে স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া মাহফিল ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত, আহত ২ শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পেইন ঝিনাইদহে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেফতার জেলা পুলিশ যশোরের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ৪৫ জনকে পুরস্কার ও ৪ জনকে পিআরএল বিদায় জেলা পুলিশ যশোরের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত বৈদ্যুতিক পাখার আঘাতে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু! মণিরামপুরে নববধূ সুমাইয়ার মৃত্যু: আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর সাজানো হয়েছিল ঘটনা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হামলার হুমকির প্রতিবাদে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

পাওনা ৩৫ হাজার টাকার বিরোধে রাসেল হত্যা, দেড় বছর পর রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই
গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক তারিখ: ২৫ আগস্ট ২০২৬:জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হোটেল কর্মচারী রাসেল মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে এতদিন ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাওনা টাকার বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই।

ঘটনার দেড় বছর পর মামলার প্রধান সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেফতারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সে।

যা ঘটেছিল

গত ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারের হোটেল কর্মচারী রাসেল মিয়া (৩৮) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ২০ মার্চ সকাল ৮টার দিকে আরামনগর বাজারস্থ দুধহাটি এলাকায় হাফিজুর রহমানের চায়ের দোকানঘরের ভেতর বাঁশের ধন্নার সঙ্গে গলায় রশি ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা নং-০৭ দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু হয়।

প্রথমে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার যায় পিবিআই, জামালপুর জেলার কাছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই সুমন আহমেদ।

পিবিআই যা পেল

পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সরিষাবাড়ীর আরামনগর এলাকা থেকে সন্দিগ্ধ আসামি মো. কালু মিয়া (২৮), পিতা মৃত বেলাল মিয়া, সাং বেপারীপাড়া কে গ্রেফতার করে।

রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কালু মিয়া ২৩ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সোহেল। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত ছিল।

গ্রেফতারকৃত কালু মিয়া গত ২৩ আগস্ট বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

হত্যার কারণ ও কৌশল

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত রাসেল মিয়া ঘটনার কিছুদিন আগে সোহেলের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নেন। টাকা ফেরত চাইলে সোহেল তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন সোহেল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাসেলকে নির্জন স্থানে ডেকে নেয়। সেখানে কালু মিয়াসহ অন্যরা মিলে রাসেলকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে তার মুখে কাপড় ঢুকিয়ে এবং পায়ুপথে মদের বোতল ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হয়।

পরে প্রমাণ নষ্ট ও ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে রাসেলকে আরামনগর বাজারের চায়ের দোকানে নিয়ে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে আসামিরা পালিয়ে যায়।

পরবর্তী পদক্ষেপ

পিবিআই জানিয়েছে, স্বীকারোক্তিতে নাম আসা অন্য আসামি সোহেলসহ বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট। তারা দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews