মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের জন্মদিনে বেনাপোলে স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া মাহফিল ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত, আহত ২ শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পেইন ঝিনাইদহে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেফতার জেলা পুলিশ যশোরের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ৪৫ জনকে পুরস্কার ও ৪ জনকে পিআরএল বিদায় জেলা পুলিশ যশোরের মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত বৈদ্যুতিক পাখার আঘাতে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু! মণিরামপুরে নববধূ সুমাইয়ার মৃত্যু: আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর সাজানো হয়েছিল ঘটনা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হামলার হুমকির প্রতিবাদে যশোরে সংবাদ সম্মেলন

মণিরামপুরে নববধূ সুমাইয়ার মৃত্যু: আত্মহত্যা, নাকি হত্যার পর সাজানো হয়েছিল ঘটনা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র চার মাসের সংসার। এরপরই ১৬ বছর বয়সী নববধূ সিনথিয়া আক্তার সুমাইয়ার রহস্যজনক মৃত্যু। শ্বশুরবাড়ির দাবি—রান্নার তরকারি নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। কিন্তু নিহতের পরিবারের অভিযোগ—যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর সুমাইয়াকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।
দুই পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের এই মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। মণিরামপুর থানায় হয়েছে অপমৃত্যু মামলা। পরে নিহতের মা বিলকিছ বেগম আদালতে হত্যা মামলা করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—সুরাইয়ার মৃত্যু কি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো ঘটনা
নিহত সিনথিয়া আক্তার সুমাইয়া যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী মটবাড়িয়া গ্রামের হারুন বিশ্বাসের মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে মণিরামপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে আল আমিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর কিছুদিন স্বাভাবিকভাবেই সংসার চললেও পরে যৌতুক নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। সুমাইয়ার বাবার পক্ষ থেকে জামাইকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের। তবে এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল অপমৃত্যু সংক্রান্ত থানার আবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ জুলাই দুপুরে রান্না করা পেঁপের তরকারি দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সুরাইয়ার সঙ্গে সুমাইয়ার ননদের মনোমালিন্য হয়। এরপর সুমাইয়া মন খারাপ করে ছিলেন।
অন্যদিকে, ঘটনার সময় নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে তরকারিতে লবণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শাশুড়ির বকাঝকার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, মৃত্যুর আগে ঠিক কী নিয়ে পারিবারিক বিরোধ হয়েছিল—সেটিও এখন তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই সন্ধ্যার পর পরিবারের লোকজনের অগোচরে সুমাইয়া তার শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
কিন্তু এখানেই দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন।
ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলেন, নাকি খাটের ওপর সুমাইয়ার মা বিলকিছ বেগম থানায় দেওয়া অপমৃত্যু সংবাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ও তার স্বামী রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে মথুরাপুরে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান।
সেখানে গিয়ে তারা সুমাইয়াকে তার স্বামী আল আমিনের শয়নকক্ষে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্যকে কেন্দ্র করেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন—
যদি সুমাইয়া ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে থাকেন, তাহলে তাকে কে নামালেন? কখন নামানো হলো
ঘরের দরজা কি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল
কে প্রথম তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান
মরদেহ নামানোর সময় কারা উপস্থিত ছিলেন
ঘরের ভেতরের কোনো আলামত পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
পরিবারের দাবি, ‘হত্যা করে আত্মহত্যার গল্প’
নিহতের পরিবার সরাসরি দাবি করছে, সুমাইয়া আত্মহত্যা করেননি। তাদের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ খাটের ওপর রেখে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
তবে এটি বর্তমানে নিহতের পরিবারের অভিযোগ মাত্র। এর সত্যতা তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।
অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিক মনোমালিন্যের পর অভিমান থেকেই সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন। ৩১ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদিতেও ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।ময়নাতদন্তই কি দেবে আসল উত্তর সুরাইয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক আলামত।
গলায় ফাঁসের চিহ্ন কেমন ছিল, শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, মৃত্যুর আনুমানিক সময় কখন এবং মৃত্যুর ধরন কী—এসব বিষয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
এ ছাড়া ঘটনাস্থলের ছবি, সুরতহাল প্রতিবেদন, ওড়না ও অন্যান্য আলামত, ঘরের দরজা-জানালার অবস্থা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অপমৃত্যু মামলা থেকে হত্যা মামলা সুমাইয়ার মৃত্যুর পর মণিরামপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ৫৯/২৬, তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬।
পরে সুরাইয়ার মা বিলকিছ বেগম যশোরের আমলি আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ফলে একই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যা ও হত্যার দুই ধরনের দাবি সামনে এসেছে।
এ অবস্থায় তদন্তে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং দুই পক্ষের বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও বৈজ্ঞানিক আলামত মিলিয়ে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করাই হবে মূল বিষয়।
তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়েও অভিযোগ নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিলন মোল্যার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তদন্তকে অপমৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তারা করেছেন।
তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগটি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে পরিবার সুমাইয়ার পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। তাদের প্রশ্ন— সুরাইয়া যদি আত্মহত্যাই করে থাকেন, তাহলে তাকে কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান
মরদেহ কখন এবং কীভাবে নামানো হলো
ঘরের দরজা ও ছিটকিনির প্রকৃত অবস্থা কী ছিল
মরদেহ খাটে নেওয়ার আগে ঘটনাস্থলের কোনো আলামত পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না?
ময়নাতদন্তে কী ধরনের আঘাত বা চিহ্ন পাওয়া গেছে?
মৃত্যুর আগে সুমাইয়ার সঙ্গে কার কার যোগাযোগ হয়েছিল
যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে পূর্বের কোনো ঘটনা বা সাক্ষ্য রয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তরই হয়তো খুলে দিতে পারে সুমাইয়ার মৃত্যুর জট।
শেষ কথা মাত্র চার মাসের সংসারের পর ১৬ বছরের এক কিশোরী নববধূর মৃত্যু কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো ঘটনা নয়। একদিকে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ বলছে, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে আত্মহত্যা; অন্যদিকে মায়ের দাবি, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সুমাইয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা হলে তার পেছনের কারণ যেমন প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন, তেমনি হত্যার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সুরাইয়ার মৃত্যুর রহস্যের জট খুলবে কি এখন সেই উত্তরই খুঁজছে পরিবার ও এলাকাবাসী।
এদিকে সুমাইয়া আর মৃত্যুর পর তাকে যারা গোসল করিয়েছিলেন তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় সময়কে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তারা বলেন গোসল করানোর সময় তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে মমতা আঘাতের ছিন্ন ছিল এবং তার হাড়ের একটা হার্ড ভাঙ্গা ছিল সেটা নিয়ে তাদের মনে নানা প্রশ্ন আসলে তারা দীর্ঘদিন ধরে মৃতদেহের গোসল করেছেন কিন্তু এমন নির্মম অত্যাচারের দৃশ্য তারা কখনোই দেখেননি এমনটি তথ্য দিয়েছেন তারা
সুমাইয়ার মা ঘরের দরজায় বসে কাঁদে আর তার মেয়ের ছবিতে আদর করে ছবি দেখে কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যায় কখন আসবে তার মেয়ে সুমাইয়া সুমাইয়ার মা কিছুতেই তার মেয়ের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছে না

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews