শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্যাতন ও অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে যেভাবে জনআস্থার প্রতীক কামরুজ্জামান আমেরিকা প্রবাসী উপদেষ্টাকে সংবর্ধনা দিলো ‘সেবা সংগঠন’ যশোরে ডিবির অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন গ্রেফতার গোপালগঞ্জে জেলা জার্নালিস্ট ফেডারেশনের কার্যালয় উদ্বোধন ঝিকরগাছার কৃতি সন্তান উজ্জ্বল হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এলজিইডি যশোরে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৯৯ হাজার ২২০ টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন ডুমুরিয়ার তালতলা নদী মাত্র এক বছরেই পুনরায় ভরাট: পুনঃখননের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন শেষ হয়েও হইলো না শেষ,ভবদহ এখন ১০ লাখ মানুষের জন্য অভিশাপ! মণিরামপুর দিনভর অভিযানে বিপুল সংখ্যক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ,জরিমানা! অসহায় নারীদের মুখে হাসি ফুটালেন রবি: বাহাদুরপুরে ৯ ওয়ার্ডে ৯ দুস্থ নারীর মাঝে ছাগল বিতরণ, পাশে বিএনপি নেতারা

১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্যাতন ও অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে যেভাবে জনআস্থার প্রতীক কামরুজ্জামান

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বেনাপোল প্রতিনিধি : শ্রেণীকক্ষে যখন বই-খাতার সাহচর্যে শৈশব থেকে কৈশোরে পদার্পণের কথা, ঠিক নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় ছাত্রদল, যুবদল পেরিয়ে তিনি আজ যশোর জেলার শারশা উপজেলা বিএনপির অন্যতম সাহসী ও আস্থাভাজন কান্ডারী। তিনি আর কেউ নন— শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব কামরুজ্জামান।

তবে বিএনপিকে ভালোবাসা এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করার মূল্য তাকে চুকাতে হয়েছে অত্যন্ত নির্মমভাবে। বিগত ১৭টি বছর ধরে আওয়ামী দুঃশাসনের যে স্টিম রোলার সমগ্র বাংলাদেশে চলেছে, তার অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী এই তৃণমূল নেতা ও তার পরিবার।
বিএনপির রাজনীতি করার ‘অপরাধে’ কামরুজ্জামান ও তার পরিবারের ওপর নেমে এসেছিল মধ্যযুগীয় বর্বরতা।কামরুজ্জামানের বড় ভাই পুটখালী ইউনিয়ন এর ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মনিরুজ্জামান ওরফে রহমতকে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী চরমভাবে পেটায়। হামলায় তার হাত ভেঙে দেওয়া হয় দু-দুবার।বাবার ওপর অত্যাচার: তাদের বৃদ্ধ পিতা জনাব রিয়াজ উদ্দিনের গলায় রামদা ধরে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের সময় কামরুজ্জামানের চার বছরের শিশু সন্তান ‘সিয়াম’ যখন নিজের পিতাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে, তখন আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়ে সেই নিষ্পাপ শিশুর ওপরও আক্রমণ চালায় সন্ত্রাসী বাহিনী।
রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে আওয়ামী লীগ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া করার ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে সাবেক সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিন ও তার সহকারী (পিএ) আসাদ বাহিনীর নেতৃত্বে কামরুজ্জামানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ (C&F) ব্যবসা এবং নিজ গ্রাম বালুণ্ডায় নির্মিত মার্কেটটি গায়ের জোরে দখল করে নেওয়া হয়।ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে কার্যত নিঃস্ব করে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হয়।আওয়ামী প্রশাসন তার নামে অন্তত ১০টি মিথ্যা ও গায়বি মামলা দায়ের করে এবং নিজের এলাকা ছেড়ে তাকে ফেরারি জীবনযাপন করতে হয়।

হাতে ও পায়ে গুরুতর আঘাত, দু-দুবার হাত ভেঙে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া—কোনো কিছুই কামরুজ্জামানকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। হুলিয়া মাথায় নিয়েও শার্শা উপজেলা থেকে শুরু করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রতিটি মিছিল-মিটিংয়ে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে এলাকায় মোঃ কামরুজ্জামানের আলাদা একটি সত্তা রয়েছে—তা হলো একজন পরম মানবতাবাদী ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে। শত কষ্টের মধ্যেও বিগত ১৭ বছর ধরে তিনি ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন।মসজিদ, মাদ্রাসা, যুব সমাজ উন্নয়নসহ সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে তিনি সর্বদাই উদার।শুধু নিজের ইউনিয়ানেই নয়, উপজেলার অন্তত ৩৪টি মসজিদের উন্নয়নকাজে তিনি আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন, যা স্থানীয়দের কাছে সর্বজনবিদিত। দল-মত নির্বিশেষে ছোট-বড় সবার বিপদে তিনি সবসময় অভিভাবকের মতো এগিয়ে এসেছেন।
একদিকে বিএনপির রাজনীতির জন্য নিজের জীবন, পরিবার ও সম্পত্তি উৎসর্গ করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; অন্যদিকে তার সামাজিক ও মানবীয় গুণাবলী—এই দুইয়ের সমীকরণে পুটখালী ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের কাছে মোঃ কামরুজ্জামান আজ এক ভালোবাসার নাম। এই কারনে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুটখালী ইউনিয়নবাসী তাকে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের চেয়ারে দেখতে চায়।
ইউনিয়নের এক ছাত্রনেতা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন:
“কামরুজ্জামান ভাই শুধু একজন নেতা নন, ইউনিয়ন এর অভিভাবক। ইউনিয়নের যে কারো বিপদে উনি সব সময় সবার এগিয়ে আসেন। ইউনিয়ন এ বিএনপির অনেক নেতার কাছে গেলে আমাদের বোঝা মনে করে তবে উনি সেটা করেন না। মানুষ হিসেবে উনার মত ভালো লোক হয় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক নেতা আশার সুরে বলেন:” কামরুজ্জামান এর মত সৎ ত্যাগী এবং দানশীল মানুষ আমাদের ইউনিয়নে আর একটি ও নাই ভাই। কথাটা আপনার কাছে বাড়িয়ে বলা হলেও এটা সত্য কথা। ইউনিয়নের যে কারো কাছে যান, সবাই এই কথায় বলবে, বিএনপি করার জন্য ওর ৪ বছরের ছেলে, ওর বাবা ,ওর ভাই মাইর খেয়েছে, ওর ব্যবসা ও মার্কেট দখল কর নিছিল আফিলের লোকজন। আমাদের ইউনিয়নে তার অনেক অবদান আছে।
এদিকে চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে কথা হয় ইউনিয়ন বিএনপির এই কান্ডারী জনাব কাম্রুজ্জামানের সাথে বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন:“গত ১৭ বছরের বিএনপির জন্য অনেক করেছি একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে, অনেক অত্যাচার সয়েছি তবে ২০২১ সালের পরে আওয়ামী হায়েনা বাহীনী আমার উপরে আচড়ে পড়ে, কি বলব ভাই। আমার পুরো পরিবার বিএনপি পরিবার, দল মত ভেদাভেদ ভুলে আমি সবার পাশে সব সময় দাড়ানোর চেষ্টা করি এবং আমার এইটা করতে ভালো লাগে। চেয়ারম্যান হলেও আমি এটা করবো, না হলেও আমি এটা করে যাব। কারন আমি যদি ভালো কাজ করি তাহলে আমার দেখা দেখে নির্দলীয় অনেক লোক বিএনপি তে যোগ দিবে, বিএনপির একজন কর্মী হিসবে সেটাই আমার সার্থকতা।
তিনি আরো বলেন: “আমার নির্বাচন করার ইচ্ছে আছে, তবে পদ-পদবী আমার মূল লক্ষ্য নয়। পুটখালী ইউনিয়নের প্রতিটি সাধারণ মানুষ এবং আমার প্রানের সংগঠন জেলা ও উপজেলা বিএনপি যদি আমাকে চায়, তবেই আমি নির্বাচনে পা বাড়াব। মহান আল্লাহ যদি আমার কপালে লেখেন আর আমি জয়ী হতে পারি—তবে এই ইউনিয়নের প্রধান অভিশাপ মাদক, চোরাচালান আর শত বছরের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের দুঃখ চিরতরে মুছে ফেলব। আগামী ২ বছরের মধ্যে পুটখালীকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো , ইনশাআল্লাহ।”

রাজনীতিতে দীর্ঘ ত্যাগ ও আনুগত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং ইউনিয়নের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জনাব মোঃ কামরুজ্জামানকেই দেখতে চাই এলাকাবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews