
মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার:কালীগঞ্জে আশরাফুল-উজ্জ্বল-সেকেন্দার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, এএসআই মামুনুরের ‘ডিগবাজি’ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সিংদাহ গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অসহায় দিনমজুরকে ‘মাদক কারবারি’ সাজিয়ে পুলিশ দিয়ে চরম হয়রানি ও ফাঁসানোর অপচেষ্টার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এলাকার চিহ্নিত একটি স্বার্থান্বেষী মহল পৈত্রিক জমি গ্রাস করতে ব্যর্থ হয়ে অবলীলায় একজন নিরীহ মানুষকে সমাজ ও প্রশাসনের চোখে অপরাধী বানানোর এই ঘৃণ্য চক্রান্তে মেতে উঠেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিংদাহ গ্রামের মৃত মামুনুর রশীদের ছেলে মোঃ ইলিয়াস শেখদের পৈত্রিক বসতভিটার ১৮৮ শতক জমি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী পক্ষ মোঃ আশরাফুল ইসলাম (পিতা মৃত আনোয়ার হোসেন), মোঃ উজ্জ্বল হোসেন (পিতা সিরাজুল ইসলাম) এবং মোঃ সেকেন্দার আলীর (পিতা মৃত মহিউদ্দিন বিশ্বাস) সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু আদালতের আইনি লড়াইয়ে জিততে না পেরে বিবাদী পক্ষ আশরাফুল, উজ্জ্বল ও সেকেন্দার সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইলিয়াস শেখকে কোণঠাসা করতে ‘মাদক নাটক’ সাজানোর চক্রান্ত শুরু করেছে। স্থানীয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বা প্রভাবিত করে তারা ইলিয়াসকে মাদক কারবারি হিসেবে ফাঁসানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোঃ ইলিয়াস শেখের বক্তব্য:
“আমাদের বাপ-দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি ১৮৮ শতক জমি, যা আমাদের বসত ভিটা। আমি একজন সাধারণ চা দোকানদার, পাশাপাশি দিনের বেলায় মানুষের ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। আমি একজন সহজ-সরল মানুষ। আশরাফুল, উজ্জ্বল আর সেকেন্দার—এই তিনজন মিলে আমাদের জমি কেড়ে নেওয়ার জন্য আমাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর সব রকম চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের কাছে এই মিথ্যা চক্রান্তের বিচার চাই।”
“ইলিয়াস শেখ একজন অত্যন্ত ভালো, শান্ত ও সহজ-সরল মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। সে দিন এনে দিন খায়। তাদের পৈত্রিক জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু সেই জেরে তাকে মাদক কারবারি বানানো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ইলিয়াস কোনোদিন কোনো মাদকের সাথে যুক্ত নয়। তাকে সমাজ ও পুলিশের চোখে হেয় করতেই এই সাজানো নাটক করা হচ্ছে।”
ঘটনার নাটকীয়তা আরও স্পষ্ট হয় যখন আজ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জানা যায়, কালীগঞ্জ থানা থেকে ৬/৭ জন পুলিশ সদস্য হঠাৎ করেই ইলিয়াস শেখের বাড়িতে হানা দেয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার নামে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও সে সময় ইলিয়াস শেখকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তখন উপস্থিত এএসআই মোঃ মামুনুর রশীদ নিজের একটি ভিজিটিং কার্ড ইলিয়াসের পরিবারের কাছে দিয়ে যান এবং ইলিয়াসকে থানায় দেখা করতে বলেন।
কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীরা যখন এই বিষয়ে সরাসরি এএসআই মামুনুর রশীদের মুখোমুখি হন, তখন তিনি সম্পূর্ণ ‘ডিগবাজি’ ও আত্মরক্ষামূলক বক্তব্য দেন।
কালীগঞ্জ থানার এএসআই মোঃ মামুনুর রশীদের বক্তব্য:
“আমি ইলিয়াস শেখের বাড়িতে যাইনি এবং তাকে আমি চিনিই না।”
নিজের ভিজিটিং কার্ড ভুক্তভোগীর বাড়িতে রেখে আসার পরেও একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন ‘অস্বীকৃতি’ ও রহস্যজনক বক্তব্য পুরো ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আশরাফুল-উজ্জ্বল-সেকেন্দার সিন্ডিকেটের এই নোংরা চক্রান্তের পেছনে নেপথ্যের কোনো গভীর আঁতাত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একটি সাধারণ জমিজমা সংক্রান্ত দেওয়ানি বিরোধকে কেন্দ্র করে একজন খেটে খাওয়া দিনমজুরকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এখন ফুঁসে উঠছে এলাকার সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।