
আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর):খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মো. মাসুদুর রহমান। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খুলনা বিভাগীয় বাছাই কমিটির সভাপতি ও বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন এবং সদস্য সচিব ও বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।মাসুদুর রহমানের এ অর্জনে মণিরামপুরবাসীর মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মুতাছিম বিল্লাহ বলেন, “মণিরামপুর উপজেলার কৃতি সন্তান মাসুদুর রহমানের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”প্রতিক্রিয়ায় মাসুদুর রহমান বলেন, “প্রথম হওয়াটা বড় বিষয় নয়, অংশগ্রহণ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি, তাই আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব। কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকলে কোনো বাধাই বাধা নয়। আমার লক্ষ্য হলো অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা।”তিনি জানান, ২০০৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সাতক্ষীরা সদর, শার্শা, কেশবপুর, কলারোয়া ও কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পদোন্নতি পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হন। কর্মদক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১৩ সালে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দেশসেরা (জাতীয় শ্রেষ্ঠ) সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হন এবং জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের নয়াদিল্লি শহরে প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান।
১৯৭৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণকারী মাসুদুর রহমান যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতা মরহুম বজলুর রহমান এবং মাতা হালিমা রহমান।
শিক্ষা প্রশাসনে সততা, দক্ষতা ও সেবামূলক মনোভাবের জন্য পরিচিত মাসুদুর রহমানের এ অর্জন শুধু মণিরামপুর নয়, সমগ্র যশোর ও খুলনা বিভাগের জন্য গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।