
বিএম সাব্বির হাসান,মণিরামপুর (যশোর):- যশোরের মণিরামপুর উপজেলার যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কজুড়ে প্রতিদিনের তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, রাস্তার পাশে অবৈধ দখল, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ বারবার নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধানে রূপ পাচ্ছে না। কয়েকদিন অভিযান ও কড়াকড়ি থাকলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও প্রায়শই যানজটে আটকে পড়ছে।প্রতিদিন সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে উপজেলার রাজগঞ্জ মোড়, বাজার এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, যানজটের কারণে ক্রেতাদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালু, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। রাস্তার পাশের ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজগঞ্জ মোড়ে যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন,মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে রাজগঞ্জ মোড়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তারা বিষয়টি মেনে চলার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে সেখানে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়, যার ফলে নতুন করে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।”স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের সাময়িক পদক্ষেপ যদি বারবার ভেস্তে যায়, তাহলে স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কবে? দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এখন দৃশ্যমান ও টেকসই উদ্যোগের অপেক্ষায় মণিরামপুরবাসী।