বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোর মণিরামপুর ফাজিল মাদ্রাসার নতুন ভবনে অসংখ্য ফাটল,ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা! নিখোঁজের তিন দিন পর কপোতাক্ষ নদে মিলল ভ্যানচালক একলাসের মরদেহ যশোরে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিপিএম-সেবা পদক পাওয়ায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ওসির খুলনা মহানগরীর ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকা– কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু কেশবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: এলজিইডি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরাবতা।

চাচাদের জালে ৭ গোল, দুই রাজহাঁস নিয়ে ফিরলেন ভাইপোরা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াই, শেষে হাসি-আড্ডায় মিশে গেল আত্মীয়তার টান

শহিদ জয়, যশোর:সম্পর্কে চাচা-ভাইপো, কিন্তু ফুটবল মাঠে নামতেই বদলে গেল হিসাব। আপনজনের মায়া ভুলে দুদলের খেলোয়াড়রা নেমেছিলেন গোলের লড়াইয়ে। ৯০ মিনিটের সেই লড়াইয়ে চাচাদের জালে সাতবার বল পাঠিয়ে শেষ হাসি হাসলেন ভাইপোরা। আর জয়ের পুরস্কার হিসেবে পেলেন দুই রাজহাঁস। হারলেও চাচাদের মুখে ছিল হাসি—কারণ এ হার যেন আপনজনের কাছেই হার, আনন্দেরই আরেক নাম।
শুক্রবার সকাল ১০টায় যশোর সদর উপজেলার মঠবাড়ি প্রাইমারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘চাচা একাদশ’ ও ‘ভাইপো একাদশের’ এই লড়াই দেখতে সকাল থেকেই মাঠে ভিড় করেন গ্রামের শত শত মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
খেলা শুরুর বাঁশি বাজতেই অবশ্য আত্মীয়তার আবেগ ছাপিয়ে যায় জয়ের আকাঙ্ক্ষা। শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে ভাইপো একাদশ। একের পর এক আক্রমণে চাচা একাদশের রক্ষণভাগ ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। পাল্টা আক্রমণে চাচারাও চেষ্টা করেছেন ম্যাচে ফিরতে। কিন্তু ভাইপোদের আক্রমণের ধার থামাতে পারেনি তারা।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ৭-১ গোলের ব্যবধানে। বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভাইপো একাদশ।
তবে এই ম্যাচের আসল সৌন্দর্য ছিল স্কোরলাইনের বাইরের গল্পে। এখানে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় ছিল পারিবারিক বন্ধন। গোল হলে ভাইপোদের উল্লাস, আবার চাচাদের পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের উত্তেজনা—সব মিলিয়ে পুরো মাঠে ছিল নির্মল আনন্দের আবহ।
আর ম্যাচ শেষে সেই আনন্দে যোগ হয় অভিনব পুরস্কার। চ্যাম্পিয়ন ভাইপো একাদশের হাতে তুলে দেওয়া হয় দুইটি রাজহাঁস। আর রানার্সআপ চাচা একাদশের জন্য রাখা হয় একটি রাজহাঁস। ট্রফির বদলে রাজহাঁস—এমন পুরস্কার দেখে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয় বাড়তি কৌতূহল ও হাসির রোল।
পুরস্কার হাতে নিয়ে ভাইপোদের উচ্ছ্বাস আর পরাজিত চাচাদের হাসিমুখ যেন বলে দিচ্ছিল—এই ম্যাচে কেউ আসলে হারেনি। মাঠে জয় পেয়েছে ভাইপোরা, কিন্তু দিনশেষে জয় হয়েছে ভালোবাসা, আত্মীয়তা ও গ্রামের সম্প্রীতির।
স্থানীয়রা বলেন, গ্রামের মাঠে এখন আগের মতো নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন দেখা যায় না। এমন একটি আয়োজন শুধু বিনোদনই দেয় না, একই সঙ্গে তরুণদের মাঠমুখী করে এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।
আয়োজকদের ভাষ্য, গ্রামের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও এমন প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কোরবোর্ডে লেখা রইল ৭-১। কিন্তু মঠবাড়ির সেই ফুটবল মাঠের গল্প শুধু সাত গোল আর এক গোলের নয়—এটি ছিল চাচা-ভাইপোর ভালোবাসা, হাসি আর একসঙ্গে আনন্দ করার এক সুন্দর দিন। দুই রাজহাঁস হাতে ভাইপোরা ফিরেছেন বিজয়ের আনন্দ নিয়ে, আর চাচারা ফিরেছেন আপনজনদের জয়ের আনন্দ বুকে নিয়ে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews