
যশোর প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬: বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আর জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশে ফের বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে মাছ-মাংস পর্যন্ত সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৭১%। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.২৪% আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৯.০৯%। গ্রামে ৮.৭২% আর শহরে ৮.৬৮% মূল্যস্ফীতি রেকর্ড হয়েছে।
বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছেই। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট তৈরি হওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও স্বীকার করেছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। তিনি বলেছেন, সংকট এখন শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বহুমাত্রিক সংকট হয়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যশোরের বড়বাজারের ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত মাসেও ১ লিটার সয়াবিন তেল ১৭০ টাকা ছিল, এখন ১৯০ টাকা। মোটা চালের কেজি ৬৫ টাকা ছাড়িয়েছে। মাসের ১৫ তারিখ পার হলেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।”পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ
দিনমজুর সালমা বেগম জানান, “আগে ৫০০ টাকায় যে বাজার হতো, এখন ৭০০ টাকাতেও হয় না। বাচ্চাদের মাছ-মাংস দেওয়া কমিয়ে দিয়েছি।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ৮% এর ওপরে থাকা মানে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩.৪৯%, যেখানে মূল্যস্ফীতি তার দ্বিগুণের বেশি। আয় না বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা আরও কমবে।
সরকার টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি বাড়ানোর কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল এখনো সীমিত। নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সামনে ঈদুল আজহা, ফলে বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার শঙ্কা করছেন ক্রেতারা।