
নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরের মণিরামপুরে এক সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তার শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার দাবি, একটি চক্র শ্যালিকাকে জিম্মি করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। ঘটনাটি বর্তমানে যশোর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মণিরামপুর থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শ্যালিকার বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা গ্রামে। ২০২০ সালের নভেম্বরে বড় বোন অন্তঃসত্ত্বা হলে তিনি সেবা করার জন্য যশোরে আসেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসান জানি পড়াশোনা করানোর ছলে তাকে প্রথমে যৌন হয়রানি শুরু করেন। পরবর্তীতে গত বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। শ্যালিকার দাবি, ওই সময়ে তার কিছু গোপন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়েছিল।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. রাফসান জানি লিখিত বক্তব্যে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার শ্যালিকা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি তাকে ছোটবেলা থেকেই লালন-পালন করেছেন। পারিবারিক সম্পর্কের খাতিরে কিছু সাধারণ ছবি তোলা হয়েছিল, যা ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্র তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে।
ডা. রাফসান জানি অভিযোগ করেন, ‘স্বদেশ বিচিত্রা’র সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আসিফ আকবর সেতু ও ডিবিসির সাংবাদিক সাকিরুল কবীর রিটনসহ কয়েকজন তাকে ও তার স্ত্রীকে ‘এশিয়ান টিভি’র সাংবাদিক শামীমের অফিসে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না দিলে শ্যালিকাকে দিয়ে ধর্ষণের মামলা ও ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, তার শ্যালিকাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে এবং তাকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আর এজন্য মণিরামপুরের সুমন ও জাকির নামের দুই সাংবাদিক আরও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. রাফসান জানির স্ত্রী সাজেদা আফরোজ, শ্বশুর সাজেদুর রহমান এবং শাশুড়ি সেলিনা খাতুন উপস্থিত থেকে তাকে সমর্থন জানান এবং শ্যালিকাকে জিম্মি দশা থেকে মুক্তির দাবি করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক সাকিরুল কবীর রিটন জানান, কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল, কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের সাথেও তার কোনো পরিচয় নেই বলে তিনি দাবি করেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, শ্যালিকা নিজেই বাদী হয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।