বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর যুবদলের উদ্যোগে অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে বর্ণাঢ্য প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা মণিরামপুরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল এএসআই নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ওপর জোর, গোপালগঞ্জে পুলিশের ব্রিফিং উপশাখা ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন পাঁজিয়া উপশাখা ‎৪৯ বিজিবির অভিযানে ৭ লক্ষ টাকার গাঁজা ও অবৈধ মালামালসহ আটক-২ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ল্যাগেজ বাণিজ্যে: নেপথ্যে কামাল-সাদ্দাম সিন্ডিকেট যশোরে যুবককে মারধর ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল থেকে দুইজন আটক ভামিয়া বনবিবিতলা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

জেসি রুবেলের সবুজ সংকেতেই মিথ্যা ঘোষণায় আনা হয় বেনাপোল বন্দরে আটক হওয়া ৬ কোটি মূল্যের পণ্য

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৬৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :: জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোল স্থলবন্দরে একের পর এক ভারত হতে আনা আমদানিকৃত পণ্য চালান আটকের ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের রহস্যময় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বেনাপোল কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়,গত বৃহষ্পতিবার( ১২মার্চ)২৬ ইং রাতে বন্দরের ৩৭নং শেডে ১০০ প্যাকেজ বেকিং পাউডারের চালান আনলোড করা হয়।আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেকিং পাওডারের ঘোষণা দিয়ে সেখানে শুল্ক ফাঁকি চেষ্টায় ভারতীয় উন্নতমানের শাড়ী, থ্রিপিচ, কসমেটিক্স ও ক্যামিক্যাল পণ্য আমদানি করেন। পণ্য চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স এবং পণ্যচালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলো সি এন্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মেসার্স হুদা ইন্টার ন্যাশনাল। পণ্য চালানটির মেনিফেস্ট নাম্বার ৬০১/২০২৬/০০১/০০১৬৩৩৩/০৩ ও এলসি নাম্বার ০০০০১৮১১২৬০১০৫৬৪। স্থানীয়দের দেওয়া একাধিক তথ্যের সুত্র ধরে অনুসন্ধান চালালে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ন কমিশনার সাইদ আহম্মেদ রুবেলের থলের কালো বিড়াল বের হয়ে পড়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সি এন্ড এফ এজেন্ট প্রতিনিধি জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরের চিহ্নিত শুল্ক ফাঁকিবাজদের সহায়তাকারী ও পৃষ্টপোষক হলো জেসি রুবেল। লাখ লাখ টাকা অর্থ বানিজ্যে আমদানিকৃত পণ্য চালানে অনিয়ম করে আমদানিকারকদের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা দিয়ে থাকে যা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সুষ্ঠ তদন্তে বের হবে।বেনাপোলের চিহ্নিত শুল্ক ফাঁকিবাজ ছোট আচঁড়ার কামাল,যশোরের আজিম, পুটখালীর মাস্টার হাদী,বেনাপোলের সামাদ, জাফরসহ ২০/২৫জন আমদানিকারক প্রতিনিধিকে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি কাজে নিয়মিত সহায়তা করে থাকে। এই তথ্যের সূত্র ধরে ব্যাপক খোঁজ চালালে জেসি রুবেলের দূর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়। বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা ও জেসি রুবেল আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স এর সাথে এক তৃতীয়াংশ চুক্তিতে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ভারত হতে মিথ্যা ঘোষণায় আনা শাড়ী থ্রীপিচ ও কসমেটিক্স এর চালানটি বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্যগারে ঢোকায়। রানা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মেসার্স হুদা ইন্টারন্যাশনালের কর্মচারী ও এ্যাসেসমেন্ট শাখায় কর্মরত রয়েছে।একাজে রানার অপর সহযোগী ছিলো বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নং শেড ইনচার্জ নুর আমিন। এর আগে গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারতীয় ট্রাক নং- ডাব্লু বি-৩৩ডি-১০২৭,ডাব্লুবি-০২সি৫৯২১ ও ডাব্লু বি-১১সি-৩১৩৩ ট্রাক যোগে বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ১৩ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য চালান আটক করে। যাহার মেনিফেস্ট নং-৬০১-২০২৫- ০০৩০০৬১২৪৭-০৯। পণ্য চালানটি পরিক্ষণ কালে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ঘোষণা বর্হিভূত পণ্য ১০ লাখ ৮০ হাজার পিস জিলেট ব্লেড ও তিন প্যাকেজ অন্যান্য পণ্য জব্দ করেন। ঐ পণ্য চালানটির আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আশিকুল ইসলাম এন্ড সন্স থাকলেও আমদানিকারক প্রতিনিধি ছিলো এই মেসার্স হুদা ইন্টার ন্যাশনাল। কাস্টমস এ্যাক্ট অনুযায়ী সরকারী রাজস্ব ফাঁকি চেষ্ঠায় মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি প্রমানিত হলে সি এন্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্স বাতিলসহ জেল জরিমানার বিধান থাকলেও পূর্ব সখ্যতার সূত্র ধরে রানার তদবিরে কোটি টাকা ঘুস নিয়ে হুদা ইন্টার ন্যাশনালের লাইসেন্স বাচাতে তৎকালীন কমিশনারকে সুপারিশ করেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ঘুসখোর কর্মকর্তা জেসি রুবেল। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মকর্তা রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যাইনী। বাংলাদেশ দূর্নীতি কমিশন দুদকের অনুসন্ধানে জেসি রুবলের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত অর্থ সম্পদের হিসাব নিলে বের হবে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুস বানিজ্যে মত্ত হয়ে অনিয়ম করে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ফিরিস্তি। স্থানীয় সচেতন মহল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরসহ আইনপ্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষন করে সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দরে আটক হওয়া ৬ কোটি টাকার পণ্য চালাটিতে রাজস্ব ফাঁকি চেষ্ঠায় জড়িতদের বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। সাথে সাথে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের বহু বিতর্কিত যুগ্ন কমিশনার রুবেলের বিরুদ্ধে আনিত অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews