বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর যুবদলের উদ্যোগে অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে বর্ণাঢ্য প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা মণিরামপুরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল এএসআই নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ওপর জোর, গোপালগঞ্জে পুলিশের ব্রিফিং উপশাখা ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন পাঁজিয়া উপশাখা ‎৪৯ বিজিবির অভিযানে ৭ লক্ষ টাকার গাঁজা ও অবৈধ মালামালসহ আটক-২ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ল্যাগেজ বাণিজ্যে: নেপথ্যে কামাল-সাদ্দাম সিন্ডিকেট যশোরে যুবককে মারধর ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল থেকে দুইজন আটক ভামিয়া বনবিবিতলা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

মাগুরায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সভা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

ফারুক আহমেদ, মাগুরা : মাগুরায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ১২:৩০ টার সময় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাগুরা জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে সভা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: অহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল মো: আখতারউজ-জামান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাশ্বতী শীল, মাগুরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আফজাল হোসেন, মাগুরা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান, মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন, মাগুরা জেলা ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উপসহকারী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আহমেদ সহ প্রমুখ।
মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন ইকরাম সহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল মো: আখতারউজ-জামান বলেন, ক্যান্সার, স্ট্রোক, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাকের (বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, গুল, খৈনী, সাদাপাতা ইত্যাদি) ব্যবহার। পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও এসকল রোগ হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ৭১% মৃত্যু অসংক্রামক রোগের কারণে হয়।
জনস্বাস্থ্যের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব-বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লক্ষ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে মারা যায়, সে হিসেবে প্রতি ঘন্টায় ১৮ জন মানুষের মৃত্যু ঘটছে।
বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ এবং ১৫ বছরের কম বয়সীদের ৬.৯% তামাক সেবন করে।
১ কোটি ৯২ লক্ষ মানুষ ধূমপান করে।
২ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ গণপরিবহনে, ৮১ লক্ষ মানুষ কর্মস্থলে এবং ৪ কোটির বেশি মানুষ বাসায় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়।
২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ জর্দা, গুল, সাদাপাতা, খৈনী ইত্যাদি (ধোঁয়াবিহীন তামাক) সেবন করে।
বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের ৪৬% তামাক ব্যবহারকারী।
বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর ২.৫১%-এর কারণ পরোক্ষ ধূমপান।

পরিবেশের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব- প্রতি ৩০০টি সিগারেট তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ কাটা হয়।
বিশ্বব্যাপী সিগারেট তৈরির জন্য প্রতিবছর ৬০ কোটি গাছ কাটা পড়ছে।
তামাক চাষ মাটির উর্বরতা শক্তি কমায়। পৃথিবীতে তামাক চাষের কারণে বছরে ৫% বন ধ্বংস হচ্ছে।
২০২৪ সালে দেশে সিগারেট উৎপাদনের জন্য প্রায় ২২ হাজার কোটি লিটার পানি ব্যবহার হয়।
বাংলাদেশে প্রতিবছর সিগারেটের প্রায় ১৬ হাজার মেট্রিক টন বিষাক্ত ফিল্টার বর্জ্য হিসেবে পরিবেশকে দূষিত করছে।
তামাক উৎপাদন ও ব্যবহার বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ এবং এসডিজি গোল-১৩ [Climate Action] অর্জনের অন্তরায়।

চিকিৎসা ব্যয়জনিত আর্থিক ক্ষতি- ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক থেকে রাজস্ব আয় ছিল ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, বিপরীতে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসাজনিত ব্যয়সহ আর্থিক ক্ষতি ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে চিকিৎসাজনিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪২৪৩৫.৬৮ কোটি টাকা (মুদ্রাস্ফীতি ৯.৮৮ অনুসারে)।

অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ ‘ধূমপান’- ২০২৪ সালে বাংলাদেশে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪১৩৯টি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ: ধারা ৪: পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনে জরিমানা: ৩০০ টাকা; পুণঃ অপরাধে জরিমানা দ্বিগুণ
ধারা ৫: তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ, আইন লঙ্ঘনে জরিমানা: ৩ মাসের জেল ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা
ধারা ৬ ক: ১৮ বছরের নিচে কারো কাছে ও কারো দ্বারা। তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ আইন লঙ্ঘনে জরিমানা: ৫০০০ টাকা
ধারা ৮: পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘নো-স্মোকিং, সাইনেজ’ স্থাপন বাধ্যতামূলক আইন লঙ্ঘনে জরিমানা: ১০০০ টাকা।
ধারা ১০: তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক, আইন লঙ্ঘনে জরিমানা: ৬ মাসের জেল ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews