
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তরুণীদের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত পরিচর্যা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লিলিয়ানা ফান্ড (এলএফ) ও সিডিডি, ঢাকার সহযোগিতায় বাঁচতে শেখা কর্তৃক বাস্তবায়িত ম্যাপ ইন সিবিআর এবং বডি টক ২.০ প্রকল্পের আওতায় ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাঁচতে শেখার হলরুমে এক বর্ণাঢ্য ডিগনিটি কিট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে ম্যাপ ইন সিবিআর প্রকল্পের আওতায় ৯৭৯ জন এবং বডি টক ২.০ প্রকল্পের আওতায় ৩০০ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোর-কিশোরী সেবা গ্রহণ করছে। অনুষ্ঠানে ১১ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তরুণীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে উভয় প্রকল্প থেকে মোট ২৪০ জন প্রতিবন্ধী কিশোরীর মাঝে ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হয়।
বিতরণকৃত প্রতিটি ডিগনিটি কিটে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য মোট ৯ ধরনের প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল—গামছা, শ্যাম্পু, দুই ধরনের সাবান, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, স্যানিটারি ন্যাপকিন, বালতি, মগ, নখ কাটার এবং চিরুনি।
ডিগনিটি কিট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মাসুদ রানা, সিভিল সার্জন, যশোর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. নবনীতা বণিক, মেডিকেল অফিসার (টিবি ও কুষ্ঠ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঁচতে শেখা-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক পলাশ গোমেজ। এছাড়াও ম্যাপ ইন সিবিআর ও বডি টক ২.০ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ডা. মাসুদ রানা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তরুণীদের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় ডিগনিটি কিট একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক। তিনি সমাজের সকল স্তরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমঅধিকার ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং এ উদ্যোগের জন্য বাঁচতে শেখা, লিলিয়ানা ফান্ড (এলএফ) ও সিডিডিকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথি ডা. নবনীতা বণিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিবন্ধী কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উপকারভোগীদের ডিগনিটি কিটের সামগ্রী যথাযথভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানান।
বাঁচতে শেখা-এর নির্বাহী পরিচালক পলাশ গোমেজ বলেন, বাঁচতে শেখা প্রতিবন্ধী শিশু ও তরুণদের অধিকার, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ডিগনিটি কিট বিতরণ কর্মসূচি উপকারভোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সকল সহযোগী প্রতিষ্ঠান, অতিথিবৃন্দ এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়। উপকারভোগী ও তাঁদের অভিভাবকরা এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।