সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতার ওপর হামলা, গুরুতর আহত যশোরে প্রেস ও ছাপাখানা মালিক সমিতির সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় নড়াইলের লোহাগড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কর্তন মণিরামপুরে যুবদলের যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ‎মণিরামপুরে সমিতির ফাঁদে পড়ে দিশেহারা গ্রাহক,বিএনপি নেতার ছায়াতলে অভিযুক্ত ২ ভাই! যশোরে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ, ব্যবসায়ী ও সন্তানের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন বাপা যশোরের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যশোরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্বর্ণসহ ১ জন আটক, ৪৯ বিজিবির সফল অভিযান ডুমুরিয়ায় সদর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা শাহজাহান জমাদ্দারের ব্যাপক গণসংযোগ যশোরে ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যতিক্রমধর্মী বিজ্ঞানমেলা অনুষ্ঠিত

‎মণিরামপুরে সমিতির ফাঁদে পড়ে দিশেহারা গ্রাহক,বিএনপি নেতার ছায়াতলে অভিযুক্ত ২ ভাই!

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুরে সেভ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ এর পরিচালক অশোক রায়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৩শ গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। অত্র এলাকায় ইতিপূর্বে প্রত্যায় ও নবজীবন নামে ২টি সমবায় সমিতির পরিচালক পর্ষদের পালানোর ঘঠনায় সজাগ থেকে ভুক্তভোগীরা সেভ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ এর পরিচালক অশোক রায় গত ১৯শে জুলাই পালিয়ে যাওয়ার সময়ে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় আটক করলেও স্থানীয় বিএনপির একটি রাজনৈতিক মহল সদস্যদের আশ্বস্ত করে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে।
‎অভিযোগ উঠেছে, মণিরামপুর উপজেলার মনোহরগর বাজারে উল্লেখিত সমবায় সমিতির পরিচালক অশোক রায় ও তার ভাই শেখর রায় পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রামের প্রায় ৩শত গ্রাহকের কোটি টাকা লুটে নিলেও ১৪ নং দূর্বাডাংগা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোঃ মাহবুর রহমান ও স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের ছায়াতলে রেখেছে। এ প্রতিবেদকের কাছে সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে রেকর্ডকৃত এক বক্তব্যে কোটি টাকা লুটের অপরাধী দুই ভাই অশোক রায় ও শেখর রায়কে নিজেদের ছায়াতলে রেখে অবাধে চলাফেরার সুযোগ করে দেওয়ায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত দূর্বাডাংগা ইউনিয়নের গণী সরদারের ছেলে বিএনপি নেতা মোঃ মাহাবুর রহমান।
‎অনুসন্ধানী টিমের তথ্য বলছে, অশোক রায় ও তার আপন ভাই শেখর রায় বিগত সরকারের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় উপজেলার মনোহরনগর-হরিনা বাজারে অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে নিম্ন-মধ্যবিত্ত কৃষি পরিবারের সহজ সরল মানুষের নিয়ে সেভ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি চালু করে। তৎকালীন আ’লীগ সরকারের স্থানীয় নেতাদের সাথে নিয়ে একছত্র অধিপত্যে বিস্তার করে ঐ এলাকা সহ পার্শবর্তী দূর্বাডাংগা,শ্যামনগর,আহসান নগর,কুশখালি,মনোহরনগর,বিপ্রকোনা,কোনাখোলা,দাসেরহাট,কামিনিডাংগা সহ প্রায় ২০টি গ্রামের ৩শত গ্রাহকের সঞ্চয় ও ডিপিএসের বিভিন্ন অংকের কয়েক কোটি টাকা জমা নিয়ে হঠাৎ করে ২মাস আগে তাদের অফিস ও কার্যক্রম বন্ধ করে দেই। এরপর হতে অশোক রায় গা ঢাকা দিয়ে বাড়িতে থাকার পর চলতি মাসের ১৯ তারিখে সন্ধায় বাড়ি হতে পালানোর সময় ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসী তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে দূর্বাডাংগা ইউনিয়নের ৪নং শ্যামনগর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মাহাবুর রহমান ও কয়েকজন ইউনিয়ন নেতা অশোক রায়কে গ্রামবাসীর কাছ থেকে তাদের হেফাজতে নিয়ে লিখিত স্টাম্পে অশোকের ভাই শেখর রায়ের স্বাক্ষর নিলেও ঘঠনার দিন হতে এখনো পর্যন্ত নিজেদের কষ্টে অর্জিত জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে নিরুপায় দিশেহারা হয়ে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে। এলাকায় সাংবাদিক এসেছে জানতে পেরে প্রতারনার স্বাীকার হওয়া সদস্যরা অশোক ও শেখরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় উপস্থাপন করেছে। কেউ কেউ তো অভিযোগের তীর উল্লেখিত বিনএপি নেতা মাহাবুর রহমানের বিরুদ্ধে দিয়ে তার  নাম প্রকাশ না করার দাবী করেছেন।
‎তীলে তীলে অর্জিত অর্থ ভবিষৎ এর জন্য গচ্ছিত রেখে সর্বশান্ত হয়েছে কৃষক,বর্গাচাষী,ব্যবসায়ী,গৃহিনী এমনকি জীবনের শেষ ভরসা বয়স্ক ভাতার টাকা পর্যন্ত অভিযুক্ত অশোক ও তার ভাই শেখরের কাছে সঞ্চয় রেখে হিশেহারা হয়ে পড়েছে বয়স্ক বৃদ্ধ-বৃদ্ধরা। এক গৃহীনি অভিযোগ করেছেন, তার স্কুল পড়ুয়া ছেলে এখন মাঠে অন্যের জমিতে কাজ করতে গেলো। বাড়ির ২টা গরু বিক্রি করে ১লক্ষ টাকা অশোক ও শেখরের কাছে দিছিলেন প্রতিমাসে ঐ টাকার মুনাফা দিয়ে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাবেন সে আশায়। আরেক পুরুষ সদস্য কান্নায় ভেংগে পড়ে বলতে থাকেন, তার এ টাকা না পেলে “আত্মহত্যা” ছাড়া তার উপায় নাই। এমন অর্ধশতাধিক ক্ষতিগ্রস্তের নানান সব সমস্যার কথা রেকর্ড আছে চলতি এই অনুসন্ধানী টিমের সদস্যদের কাছে।
‎তথ্য আছে, অভিযুক্ত অশোক রায় তার বসতঘরের জমি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়ে ভারতে পলায়নের জন্য দৌড়ঝাপ করছে,যে কোন সময় গ্রাহকদের কষ্টে জমানো টাকা অনিশ্চয়তায় ফেলে লাপাত্তা হবে অশোক রায়। গোপন তথ্যসূত্রের দাবী, অশোক রায়কে শেলটার দেওয়া নেতারা একটি বড় ধরনের অর্থের বিনিময়ে ভুক্তভোগীদের আহাজারি ধামাচাপা দেওয়ার পায়তারা করছে। উল্লেখ্য, এ নিয়ে কয়েক মাসে ৪টি সমবায় ও ঋণদান সমিতির পরিচালকদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ এর ঘঠনা ঘটলেও সাংবাদিকদের নিউজ ও সচেতন মহলের দুঃখ প্রকাশের পর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিত কুমার দাসের দায়সারা সব বক্তব্যে মোতাবেক কার্যকারিতা এ পর্যন্ত কোন বাস্তবায়ন ঘঠেনি। চলতি এ প্রতিবেদনের আগেও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা উপস্থিত আশা জাগানো বক্তব্য দিলেও এখনো কোন সমিতির গ্রাহকেরা টাকা ফিরে পাওয়ার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত ও ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে স্থানীয় সমন্বয়কারীদের বান্ডেল আতাতে বহু পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে। এমন কি ঋণের চাপে পড়ে আত্মহত্যার তথ্য আছে। অনেকের সুখের সংসার ভেংগে তছনছ হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবী, সমবায় অফিসের আইনি ব্যবস্থা জোরদার করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক।
‎এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা অভিযুক্ত মাহাবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা ২জনের টাকার স্টাম্প করে নিয়েছিলাম। এরপর আমার কাছে প্রায় ২শ লোক(সদস্য) জড়ো হলে আমি ও আলতাফ ভাই থেকে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলাম। আপনি এদিকে আসলে ঘুরে যাইয়েন,আপনার কথা অশোকরে বলে দিবানে!
‎তবে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দূর্বাডাংগা ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজপথের নেতা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আলতাফ হোসেনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
‎মণিরামপুর উপজেলায় সম্প্রতি কয়েকটি সমবায় সমিতির পরিচালকদের এহেন কর্মকান্ডের উপজেলা অফিস হতে কোন ব্যবস্থা না নেওয়া যশোর জেলা সমবায় অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি এ বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews