
মালিকুজ্জামান কাকা;যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গ্রামে গত এক সপ্তাহ ধরে দুটি ঘেরে অব্যাহত লুটপাট চলছে। ঘের দুটি হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রামের মাঠে অবস্থিত। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দিনে রাতে এপর্যন্ত প্রায় বিশ লাখ টাকা মূল্যের মাছ লুট করেছে। একই সাথে সন্ত্রাসীরা ঘেরের নৌকা, ইঞ্জিনসহ অন্যান্য মালামাল লুট করেছে। এ বিষয়ে ঘেরের লীজ গ্রহীতা মালিক প্রশান্ত কুমার মন্ডল শুক্রবার ২৪জুলাই মনিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রশান্ত যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া খামার পাড়ার পুরানো মাছ চাষী ও ব্যাবসায়ী। তার পিতা পিতা শ্রী রঞ্জন মন্ডল।
অভিযোগপত্র অনুসারে বিবাদী ১) কৃষ্ণ বিশ্বাস (৩৩), পিতা হংশ বিশ্বাস ২) অনাল বিশ্বাস (৫০), পিতা মৃত সুখ লাল বিশ্বাস ৩) সুব্রত, পিতা সুখ লাল বিশ্বাস ৪) শক্তি (৫৫) পিতা রঞ্জিত রায় ৫) রনবিশ্বাস (৫৪), পিতা মৃত নিরোদ বিশ্বাস ৬) পরিমাল (৫৫), পিতা বনমালি বিশ্বাস ৭) মাজে (৫৩) পিতা অজ্ঞাত ৮) চন্দ্র (৫২) পিতা পাগল বিশ্বাস। বিবাদীরা সকলেই কুচলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চিহ্নিত লুটপাটকারী অসামাজিক ব্যাক্তি। এসব লুটপাট কালীন সময়ে তাদের অজ্ঞাতনামা ৫/৭জন সহযোগী রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বাদি বিবাদীরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী দাবি করেছেন। এরা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী মুলক কর্মকান্ড কreরে বেড়ায় বলে জোর অভিযোগ বর্তমান।
প্রশান্ত কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, মনিরামপুর থানাধীন হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের কুচলিয়া ২নং মৌজার অন্তর্গত ২০০বিঘার ঘের (জলাশয়) এবং পাশে লেবুগাতী মৌজার অন্তর্গত ৫৫ বিঘার একটি ঘের মালিকদের কাছ হতে ২০২৫ সালে আট বছর মেয়াদি লিজ গ্রহন করেন। ঐ ঘেরে বিভিন্ন প্রজাতীয় মাছের চাষ হচ্ছে। পূর্ব আক্রোশে বিবাদীরা ঐ দুটি ঘের হতে গায়ের জোরে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা কোন নিষেধ বা কারো বারণ শুনছে না। এই মাছ ধরার ষড়যন্ত্র বেশ কিছুদিন চালাচ্ছে অভিযুক্তরা। তিনি জমি মালিকদের ২১ লাখ টাকা লিজের টাকা পরিশোধ করেছেন এবং সুনামের সাথে মাছ চাষ করছেন। পাড় ভেঙে যাওয়ায় জমি মালিকরা প্রশান্ত কে ছয় মাসের সময় দিয়েছে। সেই সময় আগামী পৌষ মাস পর্যন্ত। ঘের মালিকদের সাথে সমঝোতা পরেও বিবাদীরা ঘেরের ও মাছের ক্ষতি করার জন্ন বিভিন্ন ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
বিবাদীরা তাদের সহযোগীদের সহায়তায় ঘের হতে গত ৪/৫ দিন যাবৎ অনুমান ২০ লাখ টাকার মাছ ধরিয়া নিয়ে যায়। এমনকি ২৩ জুলাই সকাল অনুমান সাড়ে ৮টা হতে ঘেরে সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে বেআইনী জনতাবদ্ধে পজাল দড়া সহ প্রবেশ করিয়া বিভিন্ন প্রজাতিরর মাছ ধরে নিয়ে যায়। এমনকি ঘেরে থাকা চারটি বড় নৌকা, ৩৫টি টানা জাল, ২টি বড় শ্যালোমেশিন, হাড়ী, ব্যারেল ক্যারেট সহ মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জামাদি সর্ব মোট সাত লাখ টাকার মালামাল জোর করিয়া নিয়ে গেছে। এসব ঘটনার সাক্ষী তুষার বিশ্বাস (পিতা সরিঞ্জন বিশ্বাস) মোঃ সাজু হোসেন (পিতা মুত মুন্নু মিয়া) সহ আরো অনেকে। সংবাদ পেয়ে প্রশান্ত তার পার্টনার ইদ্রিস আলী ঘটনাস্থলে বিবাদীদেরকে মাছ ধরিতে এবং মালামাল নিয়ে যাইতে দেখে নিষেধ করিলে বিবাদীরা সেসব কথায় কোন কর্নপাত না করিয়া উল্টো ঘের মালিকদের সহিত খারাপ আচরন করে। বিবাদী লুটপাটকারীরা ঘের মালিকদের অকথ্য গালিগালাজ সহ মারপিট করিতে মারিতে উদ্দ্যত হয়। এবং প্রকাশ্যে জীবন নাশের হুমকি দেয়।
লীজ চুক্তি পত্র অনুসারে আট বছরের চুক্তিতে ১৪০ জন জমি মালিকের স্বাক্ষর রয়েছে।
এস আই অবাইদুর রহমান অভিযোগটি তদন্ত করছেন।