শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে ডিবির অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক নজরুলবর্ষ ও ৩৬ জুলাই উদযাপন বিএসপির ২৬১তম সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে ‘আলোছায়া’, দেওয়া হলো আর্থিক সহায়তা যশোরের যৌনপল্লীতে নারীকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি চাচাদের জালে ৭ গোল, দুই রাজহাঁস নিয়ে ফিরলেন ভাইপোরা নড়াইলের কালিয়ায় পুলিশের অভিযানে ডাকাত আরোজ আলী শেখ গ্রেপ্তার বৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে সাগরিকা পরিবহনের বাস খাদে, আহত ২৫ যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক শ্যামনগরে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হাজারো নেতাকর্মীর ঢলে মুখর ভাঙ্গা, জুলাই শহিদদের স্মরণে বিএনপির বিশাল র‍্যালি ও জনসমাবেশ

খাল খননে অনিয়ম: ৪ দিনের কাজে ২ লাখের বরাদ্দ, সিংহভাগ টাকাই উধাও!

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ১০৩ বার পড়া হয়েছে

অভিযোগের তীর পানিসারা ইউপি সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে নিউজ ছাপা হওয়ার পরে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির আরও অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে সামনে এসেছে শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শ্বেতগঙ্গা খাল খনন কর্মসূচীর সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুল আলিম। এছাড়া কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন রুস্তম সর্দার, আয়ুব হোসেন ও আব্দুল ওহাব। আয়ুব হোসেন বলেন, এই কাজ আমরাই শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে করিয়েছি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে এই কর্মসূচিতে মাত্র ৪ দিন ৫০০ টাকা হাজিরায় যথাক্রমে ৩১, ৩৫, ৪৫ ও ৪১ জন শ্রমিক এই ৪ দিনে মোট ১৫২ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয় ৭৬ হাজার টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খাতা-কলমে কমিটি থাকলেও এই কাজের সম্পূর্ণ টাকা তুলেছেন পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন। তিনি নিজেই প্রজেক্ট এনে মেম্বারকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে প্রকৃতপক্ষে কাজ হয়েছে মাত্র ৭৬ হাজার টাকার। কাজ শেষে বাকি বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস মিলছে না।

এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “সচিব ফরহাদ হোসেন আমাকে বলেন যে এটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, উপজেলার অতিরিক্ত প্রজেক্টের কাজ। আপনি এলাকার স্বার্থে কাজটা করে দেন। আমি তাঁর কথা সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়ে খালি চেকে সই করে দিয়েছি। পরে শ্রমিকদের বিল দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে মাত্র ৭৬ হাজার টাকা দেন। আর আমাকে বলেছেন যে, পিআইও অফিসের (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়) জন্য নাকি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা তিনি কী করেছেন, তা আমি কিছুই জানি না।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমি জানিনা। আমি ওখানে কখনও যায়নি। আপনারা প্রজেক্টের সভাপতির সাথে কথা বলেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জালাল উদ্দীনকে তাঁর কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাইদ বলেন, “দুই লাখ টাকার কাজ কেউ ৭৬ হাজার টাকায় করলে আমাদের কিছু করার থাকেনা। আমরা দেখি আমাদের দেওয়া নির্দেশনা মোতাবেক কাজ হয়েছে কিনা। সচিব ফরহাদ হোসেনের বহুবিধ দুর্নীতি সামনে আসার পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ না পেলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

সরকারি অর্থের এমন হরিলুট, প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং খাল খননের নামে দায়সারা কাজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews