
মাহাবুর রহমান কেশবপুর ( যশোর ): যশোরের কেশবপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বিকৃত ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে কেশবপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনি কেশবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। গত শুক্রবার (৮ মে) দায়ের করা ওই জিডির নম্বর-৩৮৮।
জিডি সূত্রে জানা যায়, NewsVerseBD Breaking News নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার ছবি সম্পাদনা ও বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়। পোস্টে তাকে “চাঁদা সম্রাট” আখ্যা দিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারিত ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নুরুজ্জামান চৌধুরী বলেন,
আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কখনও কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। অথচ একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে বিতর্কিত করতে এবং জনগণের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো বর্তমানে ভয়ংকর একটি প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। এটি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ও বিকৃত ছবি প্রচারের মাধ্যমে সম্মানহানির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি, বিকৃত তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এ ধরনের অপপ্রচার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।