
যশোর অফিস :যশোরের বাধারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বরবানু বেগম ও তার পরিবার অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। বরং অভিযোগের পরও তাদের ওপর হামলা, জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে স্বরবানু বেগম জানান, ২০১৭ সালে এক দুর্ঘটনায় তার স্বামী রুস্তম আলী ও বড় ছেলে সোহাগ মারা যাওয়ার পর থেকেই তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তার মেজো ছেলে শিহাব হোসেন, গোলাম সরোয়ার হোসেনের প্ররোচনায় পারিবারিক সম্পত্তির একক মালিকানা দাবি করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারটির দাবি, অন্য সন্তানরা নিজেদের ন্যায্য অংশ চাইলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্বরবানু বেগমের ছেলে সুজন হুসাইন ২০১২ সাল থেকে দুবাই প্রবাসে রয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তার পাঠানো প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া ২০২৩ সালে আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা বলে তিন লাখ টাকা নিয়ে একটি জমি বন্ধক রাখা হলেও, পরে সেই জমিও জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বর্তমানে অভিযুক্তরা ওই লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, শিহাব হোসেন অন্য ভাই-বোনদের অনুমতি ছাড়াই প্রায় এক বিঘা জমি একটি ইটভাটার কাছে বন্ধক দিয়েছেন এবং সেখান থেকে পাওয়া অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এতে গোলাম সরোয়ার হোসেন সরাসরি জড়িত বলে দাবি তাদের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গোলাম সরোয়ার তার ভাই আসলাম মোল্যার জমিতেও প্রতারণার মাধ্যমে মাছের ঘের তৈরি করে মালিকানা দাবি করছেন। পাশাপাশি অন্য বোনদের জমি থেকেও বালি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত ২ নভেম্বর গোলাম সরোয়ার, শিহাব হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি সুজন হুসাইনের ব্যক্তিগত জমি থেকে গাছ কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। বাধা দিতে গেলে সুজন হুসাইনসহ পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি পরিবারের। পরে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া পরিবারের অনুমতি ছাড়াই দুই বিঘা জমি ইটভাটায় দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে ভাটার মালিক হিসেবে মফিজ, শাহাজান, সাবু ও মোহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারটির দাবি, গত ৭ ডিসেম্বর আদালতে মামলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গোলাম সরোয়ারের নেতৃত্বে শান্ত হোসেন, শিহাব হোসেন, সোহেল রানাসহ অজ্ঞাত আরও ৬/৭ জন তাদের ওপর আবারও হামলা চালায়।
এদিকে গোলাম সরোয়ারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাউরাঘাটা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান স্বরবানু বেগম। তিনি বলেন, ‘ডিসি অফিস ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো আমাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি আরও বেড়েছে। আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তা চাই।’
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম সরোয়ার হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।