
বিশেষ প্রতিবেদন :বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, দেশের দিকে ধেয়ে আসছে প্রায় পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’। এটি চলতি বছরের ৫ম বৃষ্টি বলয়।
সময়সীমা ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে অবস্থান করবে। সর্বোচ্চ সক্রিয় ২৮ এপ্রিল থেকে ২ মে এবং ৪ ও ৬ মে। আগাম প্রভাব ২৫ এপ্রিল থেকেই উত্তরাঞ্চলসহ দেশের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখী ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
‘ঝুমুল’ একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয় হওয়ায় দেশের সব এলাকায় কমবেশি বজ্রবৃষ্টি হবে। দেশের ৭০-৯০% এলাকা ঝড়বৃষ্টির আওতায় আসতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
সর্বাধিক সক্রিয় সিলেট বিভাগ
।বেশ সক্রিয় ময়মনসিংহ, রংপুর, ঢাকা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তর অংশ। মাঝারি সক্রিয়, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের অনেক এলাকা । কম সক্রিয় রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকা।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি রয়েছে।সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের কিছু নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বর্ষণের কারণে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নদ-নদী ও হাওরে পানি আকস্মিকভাবে বাড়তে পারে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার বেশকিছু স্থানে একটানা বর্ষণ হতে পারে।
নিচু এলাকা ও হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ টিম।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি পরামর্শ
বোরো ধান ৮০% পেকে গেলে দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে মজুদ করুন। খেতে পানি জমলে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন। লাউ, করলা, শসা জাতীয় ফসলের মাচা শক্ত করে বেঁধে দিন। কালবৈশাখীর ঝড়ে ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টির ২-৩ দিন আগে-পরে সার বা বালাইনাশক প্রয়োগ বন্ধ রাখুন। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে।পুকুরের পাড় উঁচু করে দিন। ভারী বর্ষণে মাছ ভেসে যেতে পারে। জাল দিয়ে ঘিরে রাখুন।
মেঘ ডাকলে খোলা মাঠ, উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি এড়িয়ে চলুন। পাকা দালানে বা গাড়িতে আশ্রয় নিন। ঘরের দরজা-জানালা শক্ত করে লাগিয়ে রাখুন। টিন, গাছের ডাল উড়ে এসে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রামের নিচু এলাকার মানুষ শুকনো খাবার, খাবার পানি, ওষুধ ও জরুরি কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন। ঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখুন। বজ্রপাতে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাওর ও নদীপথে ২৮ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত ছোট নৌকা চলাচলে সতর্ক থাকুন। আকস্মিক ঢেউ ও দমকা হাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
দুর্যোগে ৩৩, ফায়ার সার্ভিস ৯৯৯, কৃষি কল সেন্টার ১৬১২৩ এ যোগাযোগ করুন।