শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে ডিবির অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক নজরুলবর্ষ ও ৩৬ জুলাই উদযাপন বিএসপির ২৬১তম সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত মনিরামপুরে সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে ‘আলোছায়া’, দেওয়া হলো আর্থিক সহায়তা যশোরের যৌনপল্লীতে নারীকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি চাচাদের জালে ৭ গোল, দুই রাজহাঁস নিয়ে ফিরলেন ভাইপোরা নড়াইলের কালিয়ায় পুলিশের অভিযানে ডাকাত আরোজ আলী শেখ গ্রেপ্তার বৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে সাগরিকা পরিবহনের বাস খাদে, আহত ২৫ যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক শ্যামনগরে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হাজারো নেতাকর্মীর ঢলে মুখর ভাঙ্গা, জুলাই শহিদদের স্মরণে বিএনপির বিশাল র‍্যালি ও জনসমাবেশ

মনিরামপুর কোমলপুর ও ঝাঁপা গ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২০৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। ধসে পড়া অংশের কারণে কোমলপুর ও ঝাঁপা গ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বহু প্রত্যাশিত সেতুটি এখন নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা প্রকৌশল প্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে ১৩ দশমিক ২০ মিটার েৈর্ঘ্যর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার ২১১ টাকা। সেতুর ুই পাশে মোট ৫২৩ মিটার হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের কথা ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে সেতুর উত্তর পাশের কোমলপুর অংশে প্রায় ১০০ মিটার সংযোগ সড়ক ধ্বসে যায়। কোনো ভারী বর্ষণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই এমন ধসের ঘটনায় বিস্মিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরদিন সকালে দেখা যায়, সড়কের একটি অংশ নিচের দিকে বসে গেছে এবং কয়েক জায়গায় ফাটল তৈরি হয়েছে। এতে সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণে যথাযথ প্রকৌশল মান বজায় রাখা হয়নি। তাঁদের ভাষ্যমতে, পুরোনো জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে নতুন সেতু আগের তুলনায় অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হয়। ফলে সেতুর উ”চতার সঙ্গে মিল রেখে সংযোগ সড়ক সমান করতে বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট করা হয়। কিন্ত সেই মাটি স্বাভাবিকভাবে বসে শক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়নি।
মফিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মাটি পুরোপুরি থিতু হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে ইটের সলিং বসিয়ে রাস্তাটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে ভেতরের স্তর শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। তাঁদের ধারণা, সঠিকভাবে কম্প্যাকশন না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার না করার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ে। একই কথা বলেন, কোমলপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খালেদুর রহমান টিটু। তিনি বলেন, মাটি বসার সুযোগ না দিয়েই সলিং করায় এই ধস নেমেছে। মাটির বদলে বালু ব্যবহার করা হলে কিংবা ধাপে ধাপে ভরাট ও কম্প্যাকশন নিশ্চিত করা হলে হয়তো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
তবে সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার নিশিত বসু অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত নকশা ও নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই প্রকল্পে লোকসান দিয়েছি। রাস্তা কেন ধসে গেল, সেটি প্রকৌশলগত বিষয়—তদন্তে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান বলেন, মণিরামপুরের ঝাঁপা বাওড় সংলগ্ন এলাকাটি মুলত যশোরের ভবদহ অঞ্চলের কাছাকাছি। এলাকাটি প্রায়ই পানিতে ডুবে থাকে। ফলে মাটির স্বাভাবিক গুণগত সমস্যার কারণে বিকল্পভাবে মাটি ক্রয় করে সেখানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিš‘ সেটি এখন হঠাৎ দেবে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ধসের ঘটনা¯’ল পরিদর্শন করেছে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews