
মনিরামপুর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বলিয়ানপুর এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে অবস্থিত একটি মক্তব ঘরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিরোধ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মক্তবটি কোনো ব্যক্তিগত বসতবাড়ি নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে মক্তব হিসেবে পরিচালিত হতো, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পাঁচ বছর আগে মানবিক বিবেচনায় স্বামী পরিত্যক্ত নারী শাহিদা বেগমকে সাময়িকভাবে এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসী ও স্থানীয় অভিভাবকদের সম্মতিতেই তাকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। শুরু থেকেই বিষয়টি অস্থায়ী হিসেবে নির্ধারিত ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অস্থায়ী আশ্রয় এখন স্থায়ীভাবে দখলের অভিযোগে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, শাহিদা বেগমের দুই সন্তান — বড় ছেলে মোমিনুর ও ছোট ছেলে রণি — দুজনেই স্বাবলম্বী। তবুও শাহিদা বেগম বর্তমানে ওই স্থান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং মক্তবটি নিজের বসতবাড়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসী জানান, “আমরা গ্রামের সন্তানদের জন্য মক্তবটি করেছিলাম। প্রাথমিকভাবে মানবিক কারণে তাকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ সেটিই আমাদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি রাস্তার পাশে স্থায়ীভাবে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।” — স্থানীয়রা আরও জানান, এই ঘটনা দীর্ঘদিনে সরকারি জমি দখলের রূপ নিচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে একটি রাজনৈতিক নেতা আহাদ আলী ও তার ভাই মুরাদ শাহিদাকে সহায়তা করছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও এসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে তার অবস্থান ও দাবিকে সমর্থন করছেন।
পাশাপাশি, এলাকাবাসী মনে করছেন, সাময়িক শান্তি যথেষ্ট নয়। তারা দ্রুত ভূমি অফিস, সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বিত ও গভীর তদন্ত দাবি করেছেন, যাতে সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থা, মক্তবের ইতিহাস এবং বর্তমান ব্যবহারের আইনগত বৈধতা যাচাই করে চূড়ান্ত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও, এলাকাবাসী মনে করছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।