বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর যুবদলের উদ্যোগে অপপ্রচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে বর্ণাঢ্য প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা মণিরামপুরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল এএসআই নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ওপর জোর, গোপালগঞ্জে পুলিশের ব্রিফিং উপশাখা ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন পাঁজিয়া উপশাখা ‎৪৯ বিজিবির অভিযানে ৭ লক্ষ টাকার গাঁজা ও অবৈধ মালামালসহ আটক-২ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ল্যাগেজ বাণিজ্যে: নেপথ্যে কামাল-সাদ্দাম সিন্ডিকেট যশোরে যুবককে মারধর ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল থেকে দুইজন আটক ভামিয়া বনবিবিতলা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে হামলার প্রতিবাদে খুলনায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা: খুলনা (২৪ ডিসেম্বর) দেশের শীর্ষ দুই সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে ‘খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ’ ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, এই হামলা কোনো একক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সামগ্রিকভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।
তাঁরা বলেন, আজ তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট পত্রিকার পক্ষে দাঁড়াননি; তাঁরা দাঁড়িয়েছেন সত্যের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে। সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা, যার লক্ষ্য স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়া।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘কোনো গণমাধ্যমের ওপর আঘাত আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলা মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপরও আঘাত।’

মানববন্ধনে খুলনার সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকরা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁরা ভেবেছিলেন, বাংলাদেশে আর রাজপথে দাঁড়াতে হবে না। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আচরণ ও চিন্তার অবসান হয়নি।

বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়; যেখানে এই মানসিকতা বিরাজ করবে, তার বিরুদ্ধেই সাংবাদিকরা আগে যেমন সোচ্চার ছিলেন, ভবিষ্যতেও তেমনি থাকবেন।

বক্তারা আরও বলেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং এর নেপথ্যে কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তা প্রকাশ করতে হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সঠিক বিচার নিশ্চিত না হলে বর্তমান সরকার ব্যর্থ প্রমাণিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

সাংবাদিকরা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। ফলে নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব অনেকটাই সাংবাদিকদের নিজেদেরই নিতে হচ্ছে। দল-মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিক পরিচয়কে সামনে রেখে আরও সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্য, আগে ঘটে যাওয়া গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় যদি ধারাবাহিকভাবে জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তোলা যেত, তাহলে হামলাকারীরা নতুন করে কোনো গণমাধ্যমে আঘাত হানার আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হতো।

মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা (এমইউজে) সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মো. রাশিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির সভাপতি কৌশিক দে, খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, নয়াদিগন্তের ব্যুরো প্রধান মো. এরশাদ আলী, সমকালের খুলনা অফিস প্রধান আবুল হাসান হিমালয়, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার কোষাধ্যক্ষ ও খুলনা টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম মতি, যমুনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান শেখ আল-এহসান, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সহসভাপতি ও আজকের পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি কাজী শামীম আহমেদ, একুশে টেলিভিশনের খুলনা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম নূর, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন খুলনার সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, দীপ্ত টিভির ব্যুরো প্রধান ইয়াসীন আরাফাত রুমি, যুগান্তরের খুলনা ব্যুরো প্রধান আহমেদ মুসা রঞ্জু, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের খুলনা ব্যুরো প্রধান বেল্লাল হোসেন সজল এবং যমুনা টিভির খুলনা প্রতিনিধি প্রবীর কুমার বিশ্বাস।

এ ছাড়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কালবেলার ব্যুরো প্রধান বশির হোসেন, খুলনাঞ্চলের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রানা কবীর, ডিবিসি টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরো প্রধান মো. আমিরুল ইসলাম, এখন টিভির প্রতিবেদক রামীম চৌধুরী, হেলাল আহমেদ মোল্লা, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রতিবেদক অভিজিৎ পাল, চ্যানেল ওয়ানের প্রতিবেদক সোহেল মাহমুদ, আলোকিত বাংলাদেশের খুলনা ব্যুরো প্রধান মো. রাজু আহমেদ, দৈনিক জন্মভূমির সাংবাদিক দেবব্রত রায়, দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক আমিনুল ইসলাম, জন্মভূমির নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল হামিদ, সময় টিভির প্রতিবেদক আবদুল্লাহ আল মামুন রুবেল ও তানজীম আহমেদ, আমার দেশের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. কামরুল ইসলাম মনি, প্রথম আলোর খুলনা প্রতিনিধি উত্তম মণ্ডল, প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন, দ্য ডেইলি স্টারের খুলনা প্রতিনিধি দীপঙ্কর রায়, দ্য ডেইলি স্টারের ফটো সাংবাদিক হাবিবুর রহমান, এনপিবির ইমরান হোসেন এবং ভয়েস অব টাইগারের উম্মে উমামা রাত্রি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার এই চেষ্টা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য গভীর অশনিসংকেত। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মব সন্ত্রাস আরও বাড়বে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews