
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাওনাদারের টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাদের ফাঁসাতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন এক হোটেল মালিক। চার বছর বিভিন্ন মাজার আর বেদে পল্লীতে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে ধরা পড়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, কথিত ভিকটিমের নাম আঃ মান্নান প্যাদা (৭০), থানা ও জেলা পটুয়াখালী। ২০২০ সালে তিনি বরগুনার তালতলী থানাধীন জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তালতলী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে ভাতের হোটেলের ব্যবসা করতেন। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি কোম্পানির শ্রমিকরা তার হোটেলে মাসিক খাবার খেত। একটি কোম্পানির কাছে তার ৫ লাখ ৩০ হাজার এবং অন্যটির কাছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল।
পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে মান্নান প্যাদা জানান, আত্মগোপনে যাওয়ার আগের দিন রাতে এক কোম্পানির মালিকের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা আদায় করে মুদি, মুরগি ও মাছ ব্যবসায়ীদের আংশিক পরিশোধ করেন। বাকি টাকা নিয়ে পাওনাদারদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় তার হোটেল ম্যানেজার মোঃ নুর আলম সিকদার তাকে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দেন এবং বলেন তিনি ব্যবসা দেখে রাখবেন। ম্যানেজারের প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে তিনি অপহরণের নাটক সাজান।
এরপর তার ছেলে মোঃ জসিম প্যাদা প্রথমে পটুয়াখালী সদর থানায় নিখোঁজের জিডি করেন এবং পরে ১৪-০৮-২০২২ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৬৫/১০৯ ধারায় অপহরণের সিআর মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর তদন্তে নামে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ ও ডিবি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আত্মগোপনের জন্য তিনি তালতলী থেকে বাসে পটুয়াখালী, সেখান থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া কেবলা বাবার মাজারে যান। এরপর কুমিল্লার বেলতলা সলেমান ল্যাংটা বাবার মাজার, চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার, ঢাকার মিরপুর-১২ উজারাঘাটে দারোয়ানের চাকরি, যশোরের বড়বাজার গাজী কালুর মাজার, বাগেরহাট খানজাহান আলীর মাজার ও বাকেরগঞ্জের বারো আউলিয়ার মাজারসহ বিভিন্ন মাজারে ও বেদে পল্লীতে ছদ্মবেশে প্রায় সাড়ে চার বছর কাটান।
সবশেষ বাগেরহাট মাজারে পরিচয় হওয়া ধর্মের মেয়ে কাজলের বরিশালের বাসা হয়ে তিনি মাদারীপুরে তার ভগ্নিপতির বাড়িতে যান।
এরই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬-০৯-২০২৬ তারিখ রাত ০১.০০টার দিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা এলাকার বেদে পল্লী থেকে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মান্নান প্যাদা দেনার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের ফাঁসানোর জন্য এ নাটক সাজিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত ও সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।