মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যশোরে ডিবির অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৬০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক কেশবপুর প্রেসক্লাব দখলের ঘটনায় নির্বাহী কমিটির সভায় নিন্দা; ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম তেল গ্যাস নীতিতে পরিবর্তন নয় তবে ধারাবাহিকতা: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মামলা চলাকালেই বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর, রাজৈরে একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ কাশিয়ানীতে এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, ৫ হাজার কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রাস্তা প্রসস্থকরন চাইঃ মণিরামপুরে যানজট নিরসনে স্বস্তির আড়ালে রাস্তা প্রসস্থের স্থায়ী সমাধানে ধোঁয়াশা! ঢাকায় মরিয়মের মৃত্যু: গাজী নজরুলের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ, মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা যশোরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগর বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ বাগেরহাটের রামপালে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতার

মামলা চলাকালেই বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর, রাজৈরে একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার রাজৈর ইউনিয়নের মজুমদার কান্দি গ্রামে একই জমি দুই দফায় বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৮ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবার সেই বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, জলফুকার চাপরাশি এলাকার ৬৯ নম্বর খতিয়ানের ১৯ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাদের অভিযোগ, জমিটির প্রকৃত মালিকপক্ষের অজ্ঞাতসারে একই জমি দুই দফায় বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মাদারীপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষের দখল বা নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগকারী আবুছামাদ চাপরাশি বলেন, “আমার বাবা ওই জমি কিনেছেন। জমি কেনার দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে এবং মাদারীপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলা চলমান থাকায় আমরা জমিতে যেতে পারছি না। এর মধ্যে বাদল মিয়া জোরপূর্বক জমি দখল করে দালালের মাধ্যমে সেখানে ঘর নির্মাণ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গোপনে একই জমি দুইবার বিক্রি করা হয়েছে। প্রকৃত জমির মালিকপক্ষ বিষয়টি জানত না। আমরা পরে বিষয়টি জানতে পারি। জমির কাছে গেলে আমাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এভাবে ঘর নির্মাণ করায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।”
আবুছামাদ চাপরাশি আরও বলেন, “মামলা আদালতে বিচারাধীন। আদালত যে পক্ষের পক্ষে রায় দেবেন, তারাই জমি ভোগদখল করবেন। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তির আগেই সেখানে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা বাধা দিতে গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, আইনগতভাবে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হোক।”
তবে বাদল মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার পক্ষের লোকজন বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে পিকুলের কাছ থেকে ওই জমি কিনেছি। জমি কেনার বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা জোরপূর্বক বা অবৈধভাবে জমি দখল করছি না।”
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও নির্মাণকাজ বন্ধের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ সময় তাদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে এ বিষয়ে রাজৈর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ, মালিকপক্ষের অজ্ঞাতসারে জমি বিক্রির দাবি এবং জমির দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এর মধ্যেই মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আবারও এলাকায় আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, জমিটির প্রকৃত মালিকানা, একই জমি একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ, দলিলপত্রের বৈধতা এবং কার দখল বৈধ—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য বিষয়টি দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews