
নিজস্ব প্রতিবেদক :যশোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বারান্দিপাড়া কদমতলা এলাকায় বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগের তার চুরির ঘটনা বেড়েছে। গত এক মাসে অন্তত ১২ থেকে ১৩টি বাড়ির মিটারের তার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে এলাকাজুড়ে চোরের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গভীর রাতে চোরেরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। বাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার থেকে সংযোগের তার কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা। কোথাও কোথাও এসির সংযোগের তারও চুরি হচ্ছে বলে জানান বাসিন্দারা। ফলে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাড়ির মালিকরা, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
এলাকাবাসীর দাবি, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাছেই সদর পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। এরপরও নিয়মিত পুলিশি টহল বা দৃশ্যমান নজরদারি না থাকায় চোরেরা সুযোগ নিচ্ছে। পুলিশের কার্যকর নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের চুরি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
পশ্চিম বারান্দিপাড়া কদমতলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, “আমার বাড়ি থেকে এর আগে কখনো তার চুরি হয়নি। এবার আমার বৈদ্যুতিক মিটারের তারও চুরি করে নিয়ে গেছে চোর। বিগত বছরগুলোতে এভাবে চোর-ছিনতাইকারীর উৎপাত ছিল না। হঠাৎ করে বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ছিনতাই বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় চুরির খবর পত্রিকায় চোখে পড়ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহমেদ জানান, চলতি মাসে তার বাসার বৈদ্যুতিক মিটারের তার চুরি হয়েছে। তার দাবি, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করা হয়েছে।
ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমার বাসা ঢাকা রোডের মূল সড়কের পাশে। একই সময়ে আমার বাসার তিনটি মিটারের তার চুরি করে নিয়ে যায় চোর।”
এদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর গভীর ভোর রাতে পশ্চিম বারান্দিপাড়া কদমতলার বাসিন্দা শাহ আলমের বাসায়ও মিটারের তার চুরির চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গেছে। শাহ আলম জানান, চোর মিটার থেকে তার কাটার সময় বিষয়টি টের পেয়ে তিনি চিৎকার দিলে চোর কাটা তার ফেলে পালিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী মো: নাঈম হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাসান ট্রেডার্স থেকে এসির মোটা তামার চুরি করে নিয়ে যায় চোর।জনদুর্ভোগ এড়াতে চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলাকাবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পশ্চিম বারান্দিপাড়া কদমতলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম সম্রাট বলেন, “বিগত কয়েক মাস ধরে এলাকায় চোরের উৎপাত বেড়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির খবর শোনা যাচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা। প্রশাসনের প্রতি আমাদের দাবি, দ্রুত এলাকায় নজরদারি ও রাতের টহল বাড়িয়ে এই জনদুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্ত করা হোক।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মিটারের তার চুরির ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নাকি এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে চুরি হওয়া তারের বাজারজাতকরণ বা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর দাবি, পশ্চিম বারান্দিপাড়া-কদমতলা এলাকায় রাতের পুলিশি টহল জোরদার, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
চলমান এই চুরি আতঙ্ক থেকে এলাকাবাসীকে স্বস্তি দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পশ্চিম বারান্দিপাড়া কদমতলার বাসিন্দারা।