
নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শালিয়াট গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের পাঁচ ছেলের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাদের আশি বছরের বৃদ্ধ মা ও দুই বোনের জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছয়মাস আগে ছেলেরা বৃদ্ধ মাকে তারা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন তিনি অত্যান্ত অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী মা রাজিয়া খাতুন মঙ্গলবার যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় স্বামীর সম্পত্তির অধিকার পেতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে রাজিয়া খাতুন জানান, সাত ছেলে ও দুই মেয়ের জননী তিনি। তিনি ও তার স্বামী লেখাপড়া জানতেন না। অভাব অনাটনের সংসার ছিলো তার। শত কষ্টের মধ্যেও তিনি নয় ছেলেমেয়েকে মাস্টার্স ডিগ্রি পাস করিয়েছেন। উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সবাই প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তারা কর্মরত। কিন্তু কোন ছেলে তার দেখাশোনা করেন না। পাঁচ ছেলে মিলে তার ভাগের ৩৯ শতক ও দুই মেয়ের ৭০ শতক জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। বর্তমানে তাদের তিনজনের ১০৯ শতক জমি পাঁচ ছেলে এনামুল কবির, ইমারত হোসেন, হুমায়ুন কবির, বিলায়েত হোসেন ও আব্দুল্লাহ ভাগ করে নিয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তারা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী মা এখন নিরূপায় তার কিছুই করার নেই। তার বড় ছেলে এনামুল কবিরের নির্দেশে এসব হচ্ছে। এনামুল কবির বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় সদস্য। রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে তাকে ও তার দুইমেয়েকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সম্প্রতি তার একমাত্র ছেলে ওলায়েত হোসেন প্রতিবাদ করলে হুমায়ুনসহ তার অন্য ছেলেরা তাকে মারধর করে। ওলায়েতকে তারা হুমকি দিচ্ছে তার জমিও দখল করে নেবে। ছেলেরা মায়ের কোন খরচ তো বহন করেই না উল্টো তার স্বামীর ভিটায় উঠতে দেয় না। তার দুই মেয়ে হোসনে আরা রুমি, দেলোয়ারা খাতুন তুলি ও নিজের সম্পত্তির অধিকার পাওয়ার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি নিজে, দুই মেয়ে হোসনে আরা রুমি, দেলোয়ারা খাতুন তুলি ও ছেলে ওলায়েত হোসেন নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।
ওই বৃদ্ধ মা আরো জানান, ২০০৮ সালে তার স্বামী মারা যায়। দীর্ঘদিন ধরে তার নয় সন্তানের মধ্যে শুধুমাত্র হুমায়ুন কবির গ্রামের বসতভিটায় বসবাস করেন। দুই মেয়ে ও অন্যান্য ছেলেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত রয়েছেন। হুমায়ুন তার ভাইয়েদের পরামর্শে মা ও দুই বোনের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। এসব সম্পত্তির ফসলের অংশ তারা পাঁচ ভাই মিলে ভাগ করে নেয়। ছয়মাস আগে তারা পাঁচ ভাই পরামর্শ করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তিনি মেয়েদের বাড়িতে ছিলেন। এখন তার গ্রামে থাকার জায়গা নেই।
এ বিষয়ে কোন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, ‘ এ ধরণের বিষয় আমার জানা নেই। থানায় অভিযোগ দিয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে’।