বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোর মণিরামপুর ফাজিল মাদ্রাসার নতুন ভবনে অসংখ্য ফাটল,ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা! নিখোঁজের তিন দিন পর কপোতাক্ষ নদে মিলল ভ্যানচালক একলাসের মরদেহ যশোরে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিপিএম-সেবা পদক পাওয়ায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ওসির খুলনা মহানগরীর ডেঙ্গু সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ এলাকা– কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু কেশবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি কোটচাঁদপুরে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে পুকুরচুরি: এলজিইডি কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরাবতা।

‎মণিরামপুরে আঙ্গুর চাষে সফলতা, জাহাঙ্গীর মিন্টুর বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৩২৭ বার পড়া হয়েছে

‎বিএম সাব্বির হাসান,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধি:-যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণবাটি গ্রামের তরুণ কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ব্যতিক্রমধর্মী আঙ্গুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আঙ্গুর এখন মণিরামপুরের মাটিতেও সফলভাবে উৎপাদিত হচ্ছে-এমন দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই তার বাগানে ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী, কৃষক ও উৎসুক মানুষ।

‎মাত্র ৩৭ শতক জমিতে ১৮০টি আঙ্গুরের চারা রোপণের মাধ্যমে শুরু হয় তার এই স্বপ্নযাত্রা। বাগানে রাশিয়ান জাতের ‘বাইকুনুর’ ও ‘অ্যাপোলো’ জাতের আঙ্গুর চাষ করা হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে মাত্র ১১ মাস ৩ দিনের মাথায় গাছে এসেছে চোখজুড়ানো ফলন। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আঙ্গুর দেখতে এখন প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

‎কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু জানান, আঙ্গুর বাগান তৈরি, মাচা নির্মাণ, সেচ ব্যবস্থা ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে শুরু থেকেই আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় তিনি এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। প্রতিটি গাছে গড়ে প্রায় ২০ কেজি পর্যন্ত আঙ্গুর উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি আঙ্গুর ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রি হয়েছে। সুস্বাদু, রসালো ও আকর্ষণীয় হওয়ায় স্থানীয় বাজারে তার আঙ্গুরের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। অনেকেই সরাসরি বাগানে গিয়ে আঙ্গুর কিনছেন।

‎শুধু ফল বিক্রিই নয়, আঙ্গুরের চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমেও বাড়তি আয় করছেন তিনি। প্রতি চারা ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হলেও খুচরা ক্রেতাদের কাছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তার উৎপাদিত চারার চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, মণিরামপুরে এই ধরনের বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষ এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর বাগান পরিদর্শন করে পরামর্শ নিচ্ছেন।

‎জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, “পরিশ্রম আর সঠিক পরিচর্যা থাকলে বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ সম্ভব। চলতি মৌসুমে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রির আশা করছি। ভবিষ্যতে আরও ৫০ শতক জমিতে আঙ্গুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং কৃষিক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব সৃষ্টি হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews